এই প্রেরণাদায়ক বাণীটি ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিপ্লবী সন্যাসী ও যুবজাগরণের অগ্রদূত স্বামী বিবেকানন্দের। উক্তিটির মর্মার্থ হলো—জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা, দৃঢ় সংকল্প ও আত্মবিশ্বাস অপরিহার্য। ব্যর্থতা, বাধা কিংবা হতাশা যেন মানুষকে থামিয়ে না দেয়; বরং প্রতিটি প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করেই এগিয়ে যেতে হবে লক্ষ্যের দিকে।
স্বামী বিবেকানন্দ জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি, কলকাতায়। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের প্রধান শিষ্য এবং বেদান্ত দর্শনের বিশ্বব্যাপী প্রচারক। ১৮৯৩ সালে শিকাগো ধর্ম সম্মেলনে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ তাঁকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করে তোলে। সেই ভাষণের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় দর্শন, মানবতাবাদ ও আত্মশক্তির বাণী সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেন।
স্বামী বিবেকানন্দের দর্শনের কেন্দ্রে ছিল কর্ম, আত্মবিশ্বাস ও মানবসেবার আদর্শ। তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষের মধ্যে অসীম শক্তি নিহিত রয়েছে, সেই শক্তিকে জাগ্রত করতে পারলেই সাফল্য অনিবার্য। তাঁর এই বাণী মূলত তরুণ সমাজের প্রতি এক দৃপ্ত আহ্বান। ভয়কে পরিহার করে, অলসতা ঝেড়ে ফেলে নিরলস সাধনায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান।
ব্যক্তিজীবন, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র কিংবা সমাজগঠনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই কথাটি মানুষকে অবিচল থাকতে শেখায়। স্বামী বিবেকানন্দের এই চিরন্তন প্রেরণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাই সাফল্যের প্রকৃত চাবিকাঠি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









