এই গভীর ও আত্মঅনুসন্ধানমূলক বাণীটি প্রাচীন গ্রিক দর্শনের জনক সক্রেটিসের চিন্তাধারার প্রতিফলন। উক্তিটির মর্মার্থ হলো—মানুষের প্রকৃত পরিচয় ও আত্মবোধ গড়ে ওঠে স্বাধীন চিন্তার মাধ্যমে। অন্যের অনুকরণ, অন্ধ বিশ্বাস বা প্রচলিত মতের অনুসরণে মানুষ নিজের সত্য সত্তাকে আবিষ্কার করতে পারে না। আত্মঅনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজন নিজের বিবেক, যুক্তি ও চিন্তাশক্তিকে সচল রাখা।
সক্রেটিস ৪৭০ বা ৪৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, এথেন্সে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন নৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ এবং পাশ্চাত্য দর্শনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী। তিনি কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি বরং প্রশ্নোত্তর ও সংলাপের মাধ্যমে জ্ঞান অনুসন্ধানই ছিল তাঁর শিক্ষা-পদ্ধতি, যা ‘সক্রেটিক পদ্ধতি’ নামে পরিচিত। সত্য ও ন্যায়ের অনুসন্ধানে আপসহীন অবস্থানের জন্য তিনি বিষপান করে মৃত্যুবরণ করেন।
সক্রেটিস বিশ্বাস করতেন নিজেকে জানাই জ্ঞানের প্রথম ধাপ। আত্মজ্ঞান ছাড়া মানুষের চিন্তা অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই বাণী আমাদের শেখায়, আত্মসম্মান ও আত্মপরিচয় গড়ে ওঠে যুক্তিনিষ্ঠ ও স্বাধীন চিন্তার ভিতের ওপর।
তথ্য ও মতের ভিড়ে ডুবে থাকা আধুনিক সমাজে এই কথাটি মানুষকে আত্মসচেতন, যুক্তিবাদী ও নৈতিক হতে অনুপ্রাণিত করে। সক্রেটিসের এই দর্শন মানবচিন্তার ইতিহাসে এক চিরন্তন আলোকবর্তিকা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









