এই অর্থবহ ও বাস্তবধর্মী বাণীটি প্রখ্যাত চিন্তাবিদ জন বেকারের। উক্তিটির মর্মার্থ হলো—মানুষ সাধারণত অন্যের আচরণ ও উদ্দেশ্যকে নিজের নৈতিক মানদণ্ডের আলোকে বিচার করে। যে ব্যক্তি নিজে অসৎ, যার চিন্তায় স্বার্থপরতা ও কুটিলতা প্রাধান্য পায়, সে সৎ মানুষের নিঃস্বার্থ কর্মের মধ্যেও কোনো মহৎ উদ্দেশ্য দেখতে পায় না। বরং সে সেখানে লুকানো স্বার্থ বা প্রতারণার ছায়া খুঁজে বেড়ায়।
জন বেকারের এই বাণী মানবমনের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক সত্যকে উন্মোচিত করে। সততা ও অসততা শুধু আচরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচারবোধকেও প্রভাবিত করে। নৈতিক দুর্বলতা মানুষের উপলব্ধিশক্তিকে সংকীর্ণ করে তোলে এবং তাকে প্রকৃত মহত্ত্ব অনুধাবন থেকে বঞ্চিত করে।
এই বাণীর মাধ্যমে জন বেকার আমাদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান। অন্যের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ করার আগে নিজের চরিত্র ও মানসিকতার দিকে তাকানো প্রয়োজন। কারণ সৎ মনই কেবল সততাকে চিনতে পারে এবং মহৎ উদ্দেশ্যের মূল্য উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়।
ব্যক্তিজীবন থেকে সামাজিক সব ক্ষেত্রেই এটি আমাদের নৈতিকতা, সহনশীলতা ও বিচারবোধকে শুদ্ধ করার এক শক্তিশালী স্মরণবাণী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









