‘প্রত্যেককে বিশ্বাস করা বিপদজনক; কিন্তু কাউকে বিশ্বাস না করা আরো বেশি বিপদজনক।’
উক্তিটি বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক আব্রাহাম লিংকনের। এই বাণীর গভীর তাৎপর্য হলো—অন্ধ বিশ্বাস যেমন মানুষকে প্রতারণার মুখে ঠেলে দিতে পারে, তেমনি সম্পূর্ণ অবিশ্বাস মানুষকে একাকী, সন্দেহপ্রবণ ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে তোলে। বিশ্বাস ছাড়া মানবিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা গড়ে ওঠে না। তাই জীবন চলার পথে প্রয়োজন সচেতন ও বিচক্ষণ বিশ্বাস।
আব্রাহাম লিংকন জন্মগ্রহণ করেন ১৮০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে। সীমিত শিক্ষার মাঝেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, আত্মশিক্ষা ও নৈতিক দৃঢ়তায় তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দাসপ্রথা বিলুপ্তি, গণতন্ত্র রক্ষা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রাখেন। গৃহযুদ্ধের সংকটময় সময়ে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব দেশকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করে।
লিংকনের এই বাণী আমাদের বাস্তব জীবনে ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। বিশ্বাসহীনতা মানুষকে আত্মরক্ষার নামে মানবিকতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, আবার নির্বিচার বিশ্বাস বিপদ ডেকে আনে। প্রকৃত প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে বিচার-বিবেচনা ও মানবিক আস্থার সমন্বয়ে।
আব্রাহাম লিংকনের জীবন ও চিন্তাধারা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— নৈতিকতা, বিশ্বাস ও সহমর্মিতা ছাড়া কোনো সমাজ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। বিশ্বাসই মানুষে মানুষে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করে, আর সেই বিশ্বাসকে সঠিক পথে পরিচালিত করাই মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ গুণ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









