এই গভীর অর্থবহ বাণীটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর। উক্তিটির তাৎপর্য হলো—মানুষের বাহ্যিক ত্রুটি, নিন্দা কিংবা অপবাদ তার অন্তর্নিহিত মহত্ত্ব ও আলোকময় কর্মকে আচ্ছন্ন করতে পারে না। যেমন চাঁদের গায়ে কিছু কলঙ্ক থাকলেও তার জ্যোৎস্না পৃথিবীকে আলোকিত করতে ব্যর্থ হয় না, তেমনি প্রকৃত গুণ, সৃজনশীলতা ও মানবিকতা সাময়িক দোষ বা সমালোচনার ঊর্ধ্বে অবস্থান করে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬১ সালের ৭মে, কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে। তিনি ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজচিন্তক। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করে বাঙালির গৌরব বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করেন। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও চিন্তাধারা মানবমুক্তি, সৌন্দর্যবোধ ও আত্মমর্যাদার চেতনায় পরিপূর্ণ।
এই বাণীর মাধ্যমে কবিগুরু আমাদের শিক্ষা দেন সমালোচনা, হিংসা বা কুৎসা কোনো মহৎ সৃষ্টিকে থামিয়ে দিতে পারে না। মানুষের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায় তার কর্ম, মূল্যবোধ ও আলো ছড়ানোর ক্ষমতায়। বাহ্যিক দাগ নয়, অন্তর্গত আলোই মানুষের সত্যিকার পরিচয় বহন করে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই দর্শন মানুষকে নিজের শক্তি ও সৌন্দর্যে আস্থা রাখতে শেখায়, সকল প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠার সাহস জোগায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









