এই আশাবাদী ও জীবনমুখী বাণীটি বিশ্ববিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবতাবাদী শিল্পী চার্লি চ্যাপলিনের। বাণীটির গভীর তাৎপর্য হলো-জীবনের দুঃখ, কষ্ট, ব্যর্থতা কিংবা সংকট কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। যেমন সুখ আসে ও যায়, তেমনি সমস্যাও সময়ের স্রোতে একদিন মিলিয়ে যায়। এই উপলব্ধি মানুষকে হতাশার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে ধৈর্য ও আশার আলোয় পথ চলতে অনুপ্রাণিত করে।
চার্লি চ্যাপলিন জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৯ সালের ১৬ এপ্রিল। তিনি ছিলেন নীরব চলচ্চিত্র যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পীদের একজন। তাঁর সৃষ্টি করা চরিত্র ‘দ্য ট্র্যাম্প’ বিশ্ব চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় প্রতীক। হাস্যরসের আড়ালে সামাজিক বৈষম্য, দারিদ্র্য, মানবিক বেদনা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তুলে ধরাই ছিল তাঁর শিল্পের মূল উদ্দেশ্য। দ্য কিড, আ ওম্যান অব প্যারিস ও দ্য গোল্ড রাশ, লিটা গ্রে ও দ্য সার্কাস, সিটি লাইট্স, মডার্ন টাইমস, দ্য গ্রেট ডিক্টেটর, লাইমলাইট–এর মতো চলচ্চিত্রে তিনি মানবজীবনের গভীর সত্যকে স্পর্শ করেছেন।
চ্যাপলিনের জীবনও ছিল সংগ্রামময়। দারিদ্র্য, একাকিত্ব, রাজনৈতিক বিতর্ক সবকিছুর মধ্য দিয়েই তিনি এগিয়ে গেছেন। তাই তাঁর এই বাণী নিছক কথামাত্র নয়, বরং জীবন থেকে অর্জিত এক বাস্তব দর্শন। তিনি বিশ্বাস করতেন, সময় সবকিছুর পরিবর্তন ঘটায় কষ্ট যত গভীরই হোক, তা চিরকাল থাকে না।
চার্লি চ্যাপলিন আমাদের মনে করিয়ে দেন, জীবনের প্রতিটি অন্ধকার অধ্যায়ের পরই আলো আসে। আশা ও মানবিকতাই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









