এই গভীর ও অনুপ্রেরণামূলক বাণীটি বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ মার্ক টোয়েনের। উক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ হলো- বই মানুষের চিন্তা, কল্পনা ও চেতনাকে সীমাবদ্ধতার গণ্ডি থেকে মুক্ত করে। বইয়ের মাধ্যমে মানুষ সময়, স্থান ও সমাজের সীমা অতিক্রম করে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও মানবিক বোধের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। মানুষের আত্মাকে মুক্ত, সচেতন ও স্বাধীন করে তোলার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো বই।
মার্ক টোয়েন জন্মগ্রহণ করেন ১৮৩৫ সালের ৩০ নভেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল স্যামুয়েল ল্যাংহোর্ন ক্লেমেন্স। তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রবন্ধকার, রম্যলেখক ও সমাজসমালোচক। আমেরিকান সাহিত্যে বাস্তববাদ ও ব্যঙ্গধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে তিনি পরিচিত। ‘দি অ্যাডভেঞ্চার্স অব টম সয়্যার’ এবং ‘অ্যাডভেঞ্চার্স অব হাক্লবেরি ফিন্’ তাঁর কালজয়ী সাহিত্যকর্ম, যেখানে সমাজ, মানবমন ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
মার্ক টোয়েন বিশ্বাস করতেন, বই মানুষের চিন্তার দুয়ার খুলে দেয় এবং প্রশ্ন করতে শেখায়। বই মানুষকে কুসংস্কার, অজ্ঞতা ও সংকীর্ণতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে। তাই তাঁর কাছে বই ছিল নিছক বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং মানবমুক্তির এক শক্তিশালী হাতিয়ার।
প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগেও বই মানুষের মননশীলতা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার প্রধান উৎস হিসেবে অটুট রয়েছে। মার্ক টোয়েনের এই উক্তি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে জাতি বইকে ভালোবাসে, সেই জাতিই প্রকৃত অর্থে মুক্ত ও আলোকিত।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









