ফুটবল বিশ্বকাপে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিয়ে দর্শকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ফিফা। তবে বিশ্বজুড়ে সমর্থক গোষ্ঠী ও শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অবশেষে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তোপের মুখে সুর নরম করে গ্যালারিতে বোতলজাত পানি নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে ফিফা কর্তৃপক্ষ।
গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফিফা নতুন এই নীতিমালার ঘোষণা দিয়েছে। পোস্টে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের যেকোনো ম্যাচে সব সমর্থক একটি করে নরম প্লাস্টিকের, ৫৯০ মিলি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন, ফ্যাক্টরি-সিলড ওয়ানটাইম পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে ঢোকার অনুমতি পাবেন।’
বিবৃতিতে যোগ করা হয়, ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কারণে সমর্থকেরা শক্ত প্লাস্টিক বা ধাতব তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না।’
ফিফার মূল স্টেডিয়াম বিধিমালায় প্রথমে বলা হয়েছিল, ‘কোনো দ্বিধা ছাড়াই দর্শকেরা স্টেডিয়ামের ভেতরে সর্বোচ্চ এক লিটার ধারণক্ষমতার খালি, স্বচ্ছ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।’ কিন্তু গত মঙ্গলবার নথির একটি হালনাগাদ সংস্করণে বলা হয়, ‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল স্টেডিয়ামের ভেতরে আনা যাবে না।’
সেই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘খেলোয়াড়, রেফারি, দর্শক, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় ফিফা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খেলোয়াড় ও দর্শকদের যেকোনো ধরনের ঝুঁকি ও চোট থেকে রক্ষা করতেই বোতল নিষিদ্ধ করার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার অনেক শহরেই তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এমন প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পানির বোতল নিষিদ্ধ করার এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি চারদিক থেকে চরমভাবে সমালোচিত হয়।
ইংলিশ সমর্থক গোষ্ঠী ‘দ্য ফ্রি লায়ন্স’ এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ‘স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের প্রথম প্রতিক্রিয়া হচ্ছে—এটি আসলে টাকা হাতানোর আরেকটি নতুন ফন্দি।’
আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোতে বিক্রি হওয়া পানি, সোডা ও জুস একচেটিয়াভাবে সরবরাহ করবে ফিফার দীর্ঘদিনের স্পনসর কোকা-কোলা।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে বলেন, ‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিষিদ্ধ করার বিষয়টি উদ্বেগজনক। কারণ, আমরা যে প্রচণ্ড গরমের কথা বলছি, তা শুধু খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, দর্শকেরাও কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রচণ্ড গরমের মুখোমুখি হবেন।’
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ফিফার এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলেছিলেন। তিনি এটিকে ‘টাকা কামানোর একটি কৌশলও’ বলেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









