মাঠে দুই দলের শক্তির পার্থক্যটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল শুরু থেকেই। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের ভাগ্য একপ্রকার নির্ধারিত হয়ে যায়। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর মেক্সিকোর শক্তির সামনে আর কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। পুরো ম্যাচ জুড়ে দাপুটে পারফরম্যান্স ধরে রেখে জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল মেক্সিকো।
মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত আসতেকা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। শুরুতে হুলিয়ান কিনোনেস দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান রাউল হিমেনেস।
ম্যাচের শেষ দিকে গিয়ে আরেক খেলোয়াড় হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা, বহিষ্কার হন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ান। আর যোগ করা সময়ে সেন্টার-ব্যাক সেসার মন্তেস বহিস্কার হলে মেক্সিকো ১০ জনের দলে পরিণত হয়।
২০১০ বিশ্বকাপের স্বাগতিক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের বিপক্ষে মেক্সিকোর ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল ওই আসর। ম্যাচটি হয়েছিল ১-১ ড্র। তবে এবার আর কোনো চমক দেখানো দূরের কথা, প্রতিপক্ষকে কোনো চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেনি তারা।
রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়াকে বেঞ্চে রেখে একাদশ সাজান মেক্সিকো কোচ। পোস্ট সামলানোর দায়িত্ব পান রাউল রানহেল। বিশ্বকাপ অভিষেকে অবশ্য তাকে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়নি।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো মেক্সিকো। রাউল হিমেনেসের সোজাসুজি শট ধরতে গিয়েই বিপদ প্রায় ডেকে এনেছিলেন গোলরক্ষক উইলিয়ামস, শেষ মুহূর্তে কোনোমতে আটকান তিনি।
চার মিনিট পর আর দলকে বাঁচাতে পারেননি উইলিয়ামস। ডি-বক্সের বাইরে গড়বড় করে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ, এক ডিফেন্ডারের দুর্বলতায় বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে শট নেন হুলিয়ান কিনোনেস, গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বলে চলে যায় জালে।
২০২৪ সালের জুনের পর মেক্সিকোর হয়ে তার প্রথম গোল এটি।
আর ২০০৬ সালে কোস্টা রিকার বিপক্ষে জার্মানির হয়ে ফিলিপ লামের ষষ্ঠ মিনিটে করা গোলের পর, বিশ্বকাপে দ্রুততম প্রথম গোল এটি।
৩৯তম মিনিটে আবার দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণে হানা দেয় মেক্সিকো। এবার হিমেনেসের বাঁকানো শট দৃঢ়তায় রুখে দেন উইলিয়ামস। পরের মিনিটে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় তারা; কিনোনেসের শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও লাগে পোস্টে।
দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে বড় ধাক্কাটা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্রুত গতির এক পাল্টা আক্রমণে সবাইকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যান মেক্সিকোর মিডফিল্ডার ব্রায়ান গুতিরেস, উপায় না পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে তাকে ফাউল করে বসেন স্ফেফেলো সিটোলে এবং দেখেন লাল কার্ড।
১০ জনের প্রতিপক্ষকে আরও চেপে ধরে ৬৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মেক্সিকো। রবের্তো আলভারাদোর ডান দিক থেকে বাড়ানো দারুণ এক ক্রস দূরের পোস্টে পেয়ে হেডে গোলটি করেন হিমেনেস।
জাতীয় দলের হয়ে ১২৭ ম্যাচে ৪৬টি গোল করলেন তিনি, বিশ্বকাপে এই প্রথম।
নির্ধারিত সময়ের ছয় মিনিট বাকি থাকতে ৯ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বলের দখল নেওয়ার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের আলভারাদোর মুখে একটু আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন থেম্বা জোয়ান।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ভালো একটি পাল্টা আক্রমণ শাণায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিপদ আঁচ করতে পেরে ডি-বক্সের বাইরে মাদাওকে ফাউল করে আটকান মন্তেস এবং তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
তাতে অবশ্য আসরের সহ-আয়োজকদের জয়োল্লাসে কোনো ভাটা পড়েনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









