গোল মিলছিল না কিছুতেই। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনলেন সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন। দারুণভাবে কাজে লাগল এই সিদ্ধান্ত। ওই তিন বদলি খেলোয়াড়ের একজন করলেন জোড়া গোল, আরেকজন একটি করে গোল করলেন ও করালেন। দারুণ জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল সুইসরা।
লস অ্যাঞ্জেলসে বৃহস্পতিবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতেছে সুইজারল্যান্ড।
ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর থেকে ১০ জন নিয়ে খেলেছে বসনিয়া। ৭৩ মিনিট পর্যন্তও গোলশূন্য ছিল স্কোরলাইন। বাকি সময়ে হয়েছে পাঁচ গোল, যার তিনটি ৯০ থেকে ৯৭ মিনিটের মধ্যে।
বদলি নামার তিন মিনিটের মধ্যে দলকে এগিয়ে নেন সুইজারল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় ইয়োহান মানজাবি। রুবেন ভার্গাস বাড়ান ব্যবধান।
২০ বছর বয়সী মানজাবি নিজের দ্বিতীয় গোলে স্কোরলাইন ৩-০ করার পর, ব্যবধান কমান বসনিয়ার বদলি খেলোয়াড় এরমিন মাহমিচ। একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে স্কোরশিটে নাম লেখান সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বদলি নেমে জোড়া গোল করার কীর্তি গড়লেন মানজাবি (২০ বছর ২৪৭ দিন)। বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাও তিনি।
দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে সুইজারল্যান্ড, ১ পয়েন্ট বসনিয়ার। একটি করে ম্যাচ কম খেলা কানাডা ও কাতারেরও ১ পয়েন্ট করে, দিনের পরের ম্যাচে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।
প্রথম ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ১-১ ড্র করেছিল সুইজারল্যান্ড। কানাডার বিপক্ষে এগিয়ে গিয়ে ১-১ ড্র করেছিল বসনিয়া।
প্রথমার্ধে প্রায় ৭০ শতাংশ বল দখলে রাখলেও, প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের পরীক্ষা খুব একটা নিতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। বসনিয়াও পারেনি উল্লেখযোগ্য কিছু করতে। দুই দলেরই কেবল একটি করে শট লক্ষ্যে ছিল।
৫৬তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত সুইসরা। ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে এনদোয়ের ওভারহেড কিক লক্ষ্যেই ছিল, দারুণ রিফ্লেক্সে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান বসনিয়া গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল।
সাত মিনিট পর আরেকটি দারুণ সেভ করেন তিনি। কর্নারে কাছ থেকে ব্রিল এমবোলোর প্রচেষ্টা চমৎকারভাবে রুখে দেন ৩০ বছর বয়সী গোলরক্ষক।
৭৪তম মিনিটে আর পারেননি তিনি। বক্সে বসনিয়ার এক ডিফেন্ডার হেডে বল ক্লিয়ার করতে পারেননি, জোরাল সাইড ভলিতে জালে পাঠান ৭১তম মিনিটে বদলি নামা মানজাবি।
৮০তম মিনিটে আরেক ধাক্কা খায় বসনিয়া। বক্সের বাইরে এমবোলোকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন দলটির ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ।
মানজাবির সঙ্গে বদলি নামা ভার্গাস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ৮৪তম মিনিটে। এমবোলোর পাস বক্সে ফাঁকায় পেয়ে ডান পায়ের শটে গোলটি করেন তিনি।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ভার্গাসের পাস থেকেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মানজাবি। জাতীয় দলের হয়ে তার গোল হলো পাঁচটি।
যোগ করা সময়ে বদলি নামার দুই মিনিটের মধ্যে বুলেট গতির শটে ব্যবধান কমান মাহমিচ। সপ্তম মিনিটে সফল স্পট কিকে তিন গোলের লিড পুনরুদ্ধার করেন জাকা। জিব্রিল সো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পেয়েছিল সুইসরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









