সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে ২০২৪ সালে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ যেখানে ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে এর পরিমাণ হয় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার মত। এই হিসেবে প্রায় ৪১ শতাংশ অর্থ বেড়েছে বাংলাদেশিদের।
সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৩ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে নেমে এসেছিল, যা ২৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এরপর দুই বছর ধরে ওই পরিমাণ আবার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
কোন দেশের গ্রাহকদের কী পরিমাণ অর্থ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা আছে, তার একটি ধারণা প্রতিবছর এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায়। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের বাধ্যবাধকতা মেনে এসএনবি ওই তথ্য প্রকাশ করে। তবে সেখানে গ্রাহকের বিষয়ে কোনো ধারণা পাওয়া যায় না।
এসএনবির ২০২৫ সালের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন)। সেখানে দেখা যায়, ২৮ বছরের মধ্যে ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ১৯৯৬ সালের পর বাংলাদেশির এত অর্থ কখনও জমা পড়েনি সেখানে।
এই হিসেবে ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের জমার পরিমাণ এ যাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অর্থের পরিমাণ প্রথমবার ১০ কোটি সুইস ফ্রাঁ ছাড়িয়ে যায় ২০০৬ সালে, যেটি ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ বছর।
নয় কোটি ৭২ লাখ সুইস ফ্রাঁ থেকে বেড়ে ওই বছর জমার পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ কোটি ৪৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ।
এরপর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম বছর ২০০৭ সালে জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ২৪ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ সালে জমার পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ২৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ, তা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০১৬ সালে তা ৬৬ কোটি ১৯ লাখে দাঁড়ায়।
পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৭ সালে তা কমে ৪৮ কোটি ১৩ লাখ সুইস ফ্রাঁতে নেমে এলেও ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের বছরে তা আবারও বেড়ে ৬১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে দাঁড়ায়। ২০২১ সালে তা পৌঁছায় ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে, যা এ যাবৎকালে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ জমা।
কিন্তু এরপর ২০২২ সালে তা কমে ৫ কোটি ৫২ লাখ এবং ২০২৩ সালে তা আরো কমে ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ হয়।
দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য হল, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের যে টাকা জমা রয়েছে, তার ‘বেশিরভাগটাই অবৈধভাবে অর্জিত এবং বিদেশে পাচার’ করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









