চীনের প্রাচীরেও তাহলে ফাটল ধরে! ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত কঙ্গোর গোলবারে তেমনই এক দুর্ভেদ্য দেওয়াল গড়ে তুলেছিলেন গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি। কলম্বিয়ার একের পর এক আক্রমণের স্রোত বারবার আছড়ে পড়ে ব্যর্থ হচ্ছিল তার গ্লাভসে। কিন্তু ম্যাচের শেষভাগে এসে একটুখানি ফাঁক খুঁজে নিলেন কলম্বিয়ার দারউইন মুনিয়স।
ব্যস, এক মুহূর্তের সেই মরণকামড়ই যথেষ্ট হলো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য। মুনিয়সের সেই ম্যাজিকাল গোলেই কঙ্গোর প্রতিরোধ ভেঙে ১–০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করল কলম্বিয়া। এই জয়ের সুবাদে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বের টিকিট কেটে নিল লাতিন আমেরিকার দলটি। অন্যদিকে, গোলকিপার এমপাসির বীরোচিত পারফরম্যান্সের পরও শেষ রক্ষা হলো না কঙ্গোর; মাঠ ছাড়তে হলো হৃদয়ভঙ্গ নিয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় কলম্বিয়া। তবে প্রথমার্ধে কঙ্গোর জমাট রক্ষণ ও গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত কিছু সেভের কারণে ডেডলক ভাঙতে পারেনি তারা। উল্টো অফসাইডের কারণে ম্যাচের ৮ম মিনিটে দানিয়েল মুনিয়োজের একটি গোল বাতিল হয়।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও যখন গোল আসছিল না, ঠিক তখনই ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন দানিয়েল মুনিয়োজ। ডান প্রান্ত থেকে কলম্বিয়ার আক্রমণভাগের চমৎকার এক বিল্ড-আপে রক্ষণভাগ চিরে বক্সের ভেতর মাপা ক্রস বাড়িয়েছিলেন সতীর্থ উইঙ্গার। কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে পোস্টের খুব কাছ থেকে প্রথম স্পর্শেই দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই ডিফেন্ডার। উল্লাসে ফেটে পড়ে গুয়াদালাহারার গ্যালারি।
ম্যাচের ৮০ মিনিটে লুইস দিয়াজের আরও একটি দর্শনীয় গোল অফসাইডের ফাঁদে পড়ে। এরপর আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।
এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘কে’ এর টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে কলম্বিয়া এবং তাদের শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করা কঙ্গো ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রইল। আর দুই নম্বরে আছে পর্তুগাল। তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে তলানিতে অবস্থান উজবেকিস্তানের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









