ফুটবলের ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তি এসেছেন, গেছেন। কিন্তু এমন কিছু নাম আছে, যারা শুধু খেলেন না—খেলাটাকেই বদলে দেন। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি তেমনই এক নাম। তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি এক অনুভূতি, এক বিস্ময়, এক অনুপ্রেরণা। আর আজ সেই মহাতারকার জন্মদিন।
সবুজ মাঠে মেসি যেন এক শিল্পী। তার বাম পায়ের স্পর্শে ফুটবল হয়ে ওঠে কবিতা, ড্রিবলিং যেন তুলির আঁচড়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু মেসির খেলা এখনো একইরকম মুগ্ধতা ছড়ায়।
১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্ম নেওয়া সেই ছোট্ট ছেলেটির পথটা মোটেও সহজ ছিল না। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, শারীরিক সমস্যা—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করেই তাকে বড় হতে হয়েছে। শৈশবে ধরা পড়ে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি, যার চিকিৎসা চালানো ছিল পরিবারের জন্য কঠিন। ঠিক তখনই স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনা তার পাশে দাঁড়ায়। ক্লাবটির ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচ মেসির প্রতিভায় এতটাই মুগ্ধ হন যে একটি ন্যাপকিনে চুক্তির প্রতিশ্রুতি লিখে দেন।
সেখান থেকেই শুরু হয় এক রূপকথার গল্প। বার্সেলোনার জার্সিতে মেসি হয়ে ওঠেন ইতিহাসের অংশ। ক্লাবটির হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল, ১০টি লা লিগা, ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ—সংখ্যাগুলোই বলে দেয় তার শ্রেষ্ঠত্বের গল্প।
তবে জাতীয় দলে সাফল্য পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘদিন। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের হার কিংবা কোপা আমেরিকার ব্যর্থতা তাকে কাঁদিয়েছে, কাঁদিয়েছে তার ভক্তদেরও। কিন্তু হার মানেননি মেসি। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে কাটে সেই আক্ষেপ।
আর তারপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ—যেখানে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি। বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুলে নিয়ে সম্পূর্ণ করেন নিজের অসমাপ্ত গল্প।
ব্যক্তিগত অর্জনেও তিনি অনন্য—রেকর্ড ৮টি ব্যালন ডি’অর, একাধিক ‘দ্য বেস্ট’, গোল্ডেন শ্যু—ফুটবলে সম্ভব প্রায় সব পুরস্কারই তার দখলে।
তবে পরিসংখ্যান দিয়ে মেসিকে মাপা যায় না। তার আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে মাঠে—তার দৌড়, তার পাস, তার গোল, আর তার নিঃশব্দ জাদুতে।
আজ সেই শিল্পীর জন্মদিন। ৩৯ বছরে পা রাখা মেসির গল্প এখনো শেষ হয়নি। এখনো ফুটবল মাঠে ছুটে বেড়ান ১৯ বছর বয়সী লম্বা চুলের সেই তরুণ মেসির মতো। সব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নাম্বার টেন। সেখানেও সাফল্য তার পায়ে লুটিয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যেই পেয়েছেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ, অর্জন করেছেন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব।
আর্জেন্টাইন অধিনায়কের কাছে বয়স যেন কেবলই একটি সংখ্যা। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, খেলার ধরণ বদলেছে। কিন্তু মেসির নামটি এখনও উচ্চারিত হচ্ছে প্রতিপক্ষ দলের রক্ষণভাগের আতঙ্ক হিসেবে। যে আতঙ্কের সঙ্গে মিশে আছে ফুটবলের সৌন্দর্য আর শিল্পের ছোঁয়া।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









