মাঠের লড়াইয়ে সহজে এক চুল ছাড় দেয়নি হাইতি। একের পর এক আক্রমণ সামলে মরক্কোকে প্রতি মুহূর্তেই দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের প্রতিটি মিনিটে টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে হাইতির রক্ষণব্যূহ ও কঠিন প্রতিরোধ ভেঙে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে মরক্কো। মরক্কো শিবিরের স্বস্তির এই জয় যেমন প্রশংসার দাবিদার, তেমনই হারলেও ফুটবল ভক্তদের মন জয় করেছে লড়াকু হাইতি।
আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে মরক্কো। তিন ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে তারা।
অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে, ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে ব্রাজিল। ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডের এখনও সুযোগ আছে গ্রুপ পর্ব পেরুনোর।
আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়ায় হাইতির কোনো সমীকরণ মেলানোর ছিল না। তবে, শেষ ভালো আশায় দারুণ লড়াই করল ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটি। কিন্তু টানা তিন হারের হতাশাই সঙ্গী হলো কনক্যাকাফ অঞ্চলের দলটির।
কিক অফের পর সময় যত গড়াল, লড়াইয়ের তীব্রতাও বাড়তে থাকে। দশম মিনিটে হাইতি এগিয়ে যায় আত্মঘাতী গোলে। ডান দিক থেকে কেভিনের বাড়ানো নিচু ক্রস সামনে থাকা ডিফেন্ডার আটকাতে পারেননি। ঝাঁপিয়ে পড়া গোলকিপার ইয়াসিন বোনোও নাগাল পাননি বলের। তার সামনে থাকা লেনি ইয়োসেপের ফ্লিক বিপদমুক্ত করতে গিয়ে, নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন বোনো। পর্দায় ভেসে ওঠে হাকিমিদের হতাশ মুখ।
বলের নিয়ন্ত্রণে শুরু থেকে আধিপত্য করা মরক্কো পিছিয়ে পড়ার পর, আক্রমণের ধার বাড়ায়। ২৯তম মিনিটে নষ্ট হয় সমতার সুবর্ণ সুযোগ। মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা ক্রস দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে বেরিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন হাকিমি। তার শট আটকানোর পর, এল কাবির ফিরতি শটও ফিরিয়ে হাইতিকে স্বস্তিতে রাখেন গোলকিপার।
৩৯তম মিনিটে ঘুরে দাঁড়ায় মরক্কো। বাম দিক দিয়ে ডিফেন্ডারদের বাধা এড়িয়ে জোরাল শট নেন ব্রাহিম দিয়াস। গোলকিপার লাফিয়ে ফেরালেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। গোলমুখে থাকা হাকিমি বল ঠেলে জালে জড়িয়ে বাঁধনহারা উল্লাসে মাতেন। ভিএআর পর্যালোচনায়ও টিকে যায় গোল। হাইতির দাবি ছিল, বল হাকিমির হাতে লেগেছিল।
মরক্কোর উচ্ছ্বাস উবেও যায় চার মিনিট পর। বক্সের ওপর দুজন তালগোল পাকালে বল পেয়ে যান উইলসন ইসিডোর। দূরপাল্লার বুলেট গতির দৃষ্টিনন্দন শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
গত বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালিস্ট মরক্কো পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে লং পাস ধরে ডান দিক থেকে বক্সে কাটব্যাক করেন হাকিমি। এক সতীর্থের ডামিতে পেয়ে যান তার পেছনেই থাকা ইসমাইল সাইবারি। নিখুঁত প্লেসিং শটে তিনি খুঁজে নেন জাল।
বিরতির বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে দিয়াসের শট ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে গেলে, এগিয়ে যাওয়া হয়নি মরক্কোর।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে ধার বাড়ায় মরক্কো। ৬০তম মিনিটে এল খান্নোউসের বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শট ঝাঁপিয়ে আটকান গোলরক্ষক। একটু পর ডান দিক থেকে আসা ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে রিকার্ডো আতে নিজেদের জালেই জড়াতে বসেছিলেন, অল্পের জন্য ক্রসবারের পর দিয়ে যায়।
৭৮তম মিনিটে ম্যাচে প্রথম এগিয়ে যায় মরক্কো। কর্নারের পর বক্সে ভেতরে বল পেয়ে দারুণ সাইড ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন আট মিনিট আগে সাইবারির বদলি নামা ফরোয়ার্ড সুফিয়ান রাহিমি।
শেষ দিকে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন ইয়াসিন। রাহিমির কাটব্যাক থেকে বক্সে ফাঁকায় থাকা এই উইঙ্গার সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলের উদযাপন করতে অবশ্য ২০ বছর বয়সীকে অপেক্ষা করতে হয়। সাইবারি পাসের সময় বল লাইন পেরিয়ে গিয়েছিল কিনা, সেটা চেক করে রেফারি। ভিএআর চেক গোল টিকে গেলে সতীর্থদের সাথে উল্লাসে মাতেন ইয়াসিন। একটু পর শেষের বাঁশি বাজলে, আরেকদফা উদযাপনে মাতে মরক্কো।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









