পাঁচ দিন আগেও বিশ্বকাপে গোলের দেখা পাননি উসমান দেম্বেলে। অথচ সেই গোলখরা কাটানোর পরের ম্যাচেই তিনি উপহার দিলেন দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক, নাম লেখালেন রেকর্ড বইয়ে। দেম্বেলের এমন অতিমানবীয় পারফর্ম্যান্সে নরওয়েকে অনায়াসে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হিসেবে পরের রাউন্ডে পা রাখলো ফ্রান্স।
বস্টনে শুক্রবার ‘আই’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। মাঠের লড়াইয়ে নরওয়েকে পাত্তাই দেয়নি দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে ভর করে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাসিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। গত ম্যাচে গোল খরা কাটানো দেম্বেলে এই ম্যাচে ছিলেন আরও বিধ্বংসী রূপে। একের পর এক আক্রমণে নরওয়ের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখা এই ফরোয়ার্ড একে একে আদায় করে নেন তিন-তিনটি গোল। তার এই দারুণ হ্যাটট্রিকে নরওয়ের বিশ্বকাপ যাত্রায় বড় ধাক্কা লাগে, আর ফ্রান্স মেতে ওঠে গ্রুপ সেরার উল্লাসে।
একই সময়ে গ্রুপের আরেক ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছে সেনেগাল। সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হয়ে নকআউট পর্বে খেলার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে আফ্রিকার দলটি।
তিন ম্যাচেই হারের পথে ১২ গোল খেয়ে বিদায় নিয়েছে ইরাক।
ম্যাচের প্রথম ৩২ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেন দেম্বেলে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ম্যাচের শুরু থেকে দ্বিতীয় দ্রুততম ও গত ৭২ বছরে দ্রুততম হ্যাটট্রিক এটি।
প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করা কিলিয়ান এমবাপে এবার জালের দেখা না পেলেও, দেম্বেলের প্রথম দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি।
শেষ দিকে ফ্রান্সের চতুর্থ গোলটি করেন দিজিরে দুয়ে।
মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দেশে ফেরায় কোচ দিদিয়ে দেশোঁ এ দিন ফ্রান্সের ডাগআউটে ছিলেন না। এই দায়িত্ব পালন করেন সহকারী কোচ গি স্টিফোঁ।
সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারানো ম্যাচ থেকে একাদশে ১০টি পরিবর্তন এনে নামে নরওয়ে। প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করা আর্লিং হলান্ডকে রাখা হয় বেঞ্চে। দ্বিতীয়ার্ধেও মাঠে নামানো হয়নি তাকে। আগের ম্যাচে ইরাককে ৩-০ গোলে হারানো ফ্রান্স তাদের একাদশে পরিবর্তন আনে চারটি।
বিশ্বকাপে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের (১৬) রেকর্ডধারী এমবাপে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল পেতে পারতেন। কিন্তু ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে তার শট লাগে ক্রসবারে।
গোলের জন্য বেশিক্ষণ অবশ্য অপেক্ষায় থাকতে হয়নি ফ্রান্সকে। সপ্তম মিনিটে দারুণ গোলে দলকে এগিয়ে নেন দেম্বেলে। মাঝমাঠ থেকে এমবাপের বাড়ানো বল ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে ছিল প্রতিপক্ষের তিন খেলোয়াড়। দুই জনের মাঝ দিয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ব্যালন দ’র জয়ী তারকা।
বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ১২ ম্যাচে গোলহীন ছিলেন দেম্বেলে। ইরাকের জালে বল পাঠিয়ে সেই খরা কাটান তিনি। দ্বিতীয় গোলটি পেতে তার বেশি সময় লাগল না।
২০তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন দেম্বেলে। এমবাপের আরেকটি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
পরের মিনিটে ব্যবধান কমায় নরওয়ে। সতীর্থের পাস ধরে বক্সে ঢুকে গোলটি করেন আসগার্ড।
তবে ৩২তম মিনিটে দুই গোলের লিড পুনরুদ্ধার করেন দেম্বেলে। অহেলিয়া চুয়ামেনির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এবারও বক্সে তার সামনে ছিলেন প্রতিপক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড়। তাদের মাঝ দিয়ে বাঁ পায়ের আরেকটি শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধে আর উল্লেখযোগ্য সুযোগ কেউ তৈরি করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ হারায় নরওয়ে। লারসেনের দুর্বল পেনাল্টি কিক ঠেকিয়ে দেন মাইক মিয়াঁ। অস্কার বব ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পেয়েছিল নরওয়ে।
এরপর খেলার গতি কমে আসে। ৬৫তম মিনিটে তুলে নেওয়া হয় দেম্বেলেকে। ৮৭তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়েন এমবাপেও।
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান দুয়ে। বাঁ দিক থেকে ব্রাডলে বার্কোলার ক্রসে বক্সে হেডে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেন ২১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
শেষ বত্রিশে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে খেলবে নরওয়ে। ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ জানা যাবে আরও পরে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









