অবিশ্বাস্য, নাটকীয় এবং সম্ভবত বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ উপহার দিলো আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের নবাগত দলটির বিপক্ষে শেষ মিনিট পর্যন্ত ঘাম ঝরাতে হলো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর ১২০ মিনিটের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ৫ গোলের থ্রিলার শেষে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবে হেরেও বিশ্বফুটবলে নিজেদের নামটি স্মরণীয় করে রাখার সবটুকুই করেছে লড়াকু কেপ ভার্দে।
প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই স্পেন ও উরুগুয়েকে আটকে দেওয়া কেপ ভার্দে এদিন শুরু থেকেই ইতিবাচক ফুটবল খেলে। তবে ম্যাচের ২৮তম মিনিটে প্রথম লিড নেয় আলবিসেলেস্তেরা। ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের নিখুঁত পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে গোল করেন লিওনেল মেসি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা অষ্টম ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা, যা বিশ্বকাপে তাঁর ২০তম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা কিছুটা ছন্দ হারালে সুযোগ লুফে নেয় কেপ ভার্দে। ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্দেসের পাস থেকে দুর্দান্ত এক শটে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে স্কোরলাইন ১-১ করেন ডেরয় দুয়ার্তে। এরপর ৯০ মিনিট পর্যন্ত চলে কেপ ভার্দে গোলরক্ষক দোসিমার দিয়াজ ভোজিনহার বীরত্বের গল্প। মেসির দুটি চোখধাঁধানো ফ্রি-কিকসহ বেশ কয়েকটি আক্রমণ রুখে দিয়ে ম্যাচ অতিরুক্ত সময়ে নিয়ে যান তিনি।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই (৯১ মিনিটে) কর্নার থেকে উড়ে আসা বল পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে জোরালো শটে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। কিন্তু লড়াই ছাড়েনি কেপ ভার্দে। ১০৩ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে কাট করে ডান পায়ের দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজকে পরাস্ত করে কেপ ভার্দেকে আবার সমতায় (২-২) ফেরান সিডনি ক্যাব্রাল।
নাটকের তখনও বাকি ছিল। ১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দে ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে রেখেছিল দুই দলই। তবে রেফারির শেষ বাঁশিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









