ইতিহাস বদলাতে পারল না ব্রাজিল। নরওয়েকে হারাতে না পারার ধারা বজায় রাখলো কার্লো আনচেলোত্তির শিষ্যরা। শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে এক হালান্ডের কাছেই ধরাশায়ী হয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে স্কোরলাইন দেখে ম্যাচের নাটকীয়তা বোঝার সুযোগ নেই।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল ছিল সতর্ক। চতুর্থ মিনিটেই নরওয়ে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপর ১১ মিনিটে মাতেউস কুনিয়াকে বক্সে ফাউল করা হলে ভিএআর পর্যালোচনার পর ব্রাজিল পেনাল্টি পায়। কিন্তু ১৪ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারাইস। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড দারুণ এক সেভে দলকে রক্ষা করেন।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও সুযোগের দিক থেকে এগিয়েছিল ব্রাজিল। তবে বিরতির পরও গোলের দেখা মিলছিল না। ৫৮ মিনিটে এনদ্রিককে নামিয়ে আক্রমণে গতি আনার চেষ্টা করেন ব্রাজিলের কোচ। মাঠে নেমেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিখুঁত পাস থেকে সহজ সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি তরুণ এই ফরোয়ার্ড।
এরপর নেইমারকেও মাঠে নামানো হয় ম্যাচে ফেরার আশায়। কিন্তু ব্রাজিলের অপেক্ষার মুহূর্তটি নিজেদের করে নেন আর্লিং হলান্ড। ৭৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি গোল করে নিজের জোড়া পূর্ণ করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় সাতে, যা তাকে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়।
যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও সেটি শুধুই ব্যবধান কমানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ২–১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নরওয়ে, আর বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ব্রাজিলের।
এই হারের মধ্য দিয়ে আরও একটি পরিসংখ্যান অক্ষত থাকল। ইতিহাসে দুই দলের পাঁচ দেখাতেও নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না ব্রাজিল। এখন পর্যন্ত নরওয়ের দুটি জয় ও তিনটি ড্র—কিন্তু ব্রাজিলের ঝুলিতে নেই একটি জয়ও। ফুটবল ইতিহাসে এমন পরিসংখ্যান বিরল। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল ব্রাজিলের জন্য নরওয়ে যেন এখনও অমীমাংসিত এক ধাঁধার নাম।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









