ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সংকট, যার মূলে রয়েছে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। ইংল্যান্ডের আপত্তির পর এখন অস্ট্রেলিয়াও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিএনএন এইচডি জানিয়েছে, ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের বিষয়ে ইংল্যান্ড ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিকেই এই অবস্থানের প্রাথমিক কারণ হিসেবে দেখছে দেশটি। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার জানিয়েছেন, তারা নিপাহ ভাইরাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অসুস্থ যাত্রীদের জন্য বিদ্যমান স্বাস্থ্যবিধি পরিবর্তনের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন না থাকলেও দেশ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হলেও অস্ট্রেলিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে এখনও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাস করোনাভাইরাসের চেয়েও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, ‘নিপাহ আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল স্বাস্থ্যকর্মীদের মাস্ক, গগলস এবং পিপিই ব্যবহারের কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।’
এই প্রেক্ষাপটে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা জোরালো হওয়ায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যেও সতর্কতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম আরও জানিয়েছে যে, ইংল্যান্ডের অবস্থানের পর ইউরোপের আরও বেশ কয়েকটি দেশ ভারতে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছে। পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ দলের এই বিশ্বকাপের মোট ৫৫টি ম্যাচের মধ্যে ২০টি শ্রীলঙ্কায় এবং বাকি ৩৫টি ভারতে হওয়ার কথা ছিল।
তবে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা আইসিসির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









