বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। ফক্সবোরো স্টেডিয়ামের এই লড়াইকে ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ২০২২ সালের সেমিফাইনালের স্মৃতিকে ঘিরে।
কাতার বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে ২-০ গোলে জিতে ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। চার বছর পর একই মঞ্চে আবারও মুখোমুখি দুই দল। তবে এবার মরক্কো আর চমক দেখানো কোনো দল নয়, তারা নিজেদের প্রমাণ করেছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে।
এমবাপ্পের নেতৃত্বে দুর্দান্ত ফ্রান্স
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অন্যতম সেরা দল ফ্রান্স। আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে গ্রুপ পর্ব ও শেষ ষোলোর বাধা পেরিয়েছে তারা। তবে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় ফরাসিদের। ৯০ মিনিটে গোলের দেখা না পেলেও কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টিতে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তারা।
এমবাপ্পে এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সাত গোল করেছেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসি ও আর্লিং হাল্যান্ডের সঙ্গে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে আছেন বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান ডেম্বেলে, যিনি গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন। ফ্রান্সের এই শক্তিশালী আক্রমণভাগ সামলানো মরক্কোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বদলে যাওয়া মরক্কো
অন্যদিকে, অধিনায়ক মোহামেদ ওয়াহাবির নেতৃত্বে দারুণ ছন্দে আছে মরক্কো। শেষ ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আফ্রিকার দলটি। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র এবং হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে তারা।
ওয়াহাবির মতে, মরক্কো এখন আর কাউকে চমকে দেওয়ার পর্যায়ে নেই। তিনি বলেন, আমরা এখন আর কাউকে অবাক করছি না, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। তবে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রতিশোধ নয়, নিজেদের সেরাটা দেওয়াই দলের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে ২০২২ সালের সেই হার মরক্কোর খেলোয়াড়দের মনে থাকবেই। এর সঙ্গে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কও এই ম্যাচের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থাকা মরক্কোর বিপুলসংখ্যক মানুষ বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাস করেন। তাই ম্যাচটি শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ ও ইতিহাসও।
ফ্রান্সকে ঠেকানোর বড় পরীক্ষা মরক্কোর রক্ষণে
ফ্রান্সের ভয়ংকর আক্রমণভাগকে আটকাতে মরক্কোর সবচেয়ে বড় ভরসা তাদের রক্ষণভাগ। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন। রক্ষণে রয়েছেন বিশ্বসেরা ডিফেন্ডারদের একজন আশরাফ হাকিমি। মাঝমাঠ থেকে সেন্টার-ব্যাক পর্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলছে মরক্কো। তাদের শক্ত রক্ষণ ফ্রান্সকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।
মানসিক শক্তিতে এগিয়ে ফ্রান্স
ফ্রান্স শুধু আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য নয়, মানসিক দৃঢ়তার জন্যও এগিয়ে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ধৈর্য ধরে খেলে জয় তুলে নিয়েছে তারা। কঠিন পরিস্থিতিতেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষমতা ফরাসিদের বড় শক্তি।
ফ্রান্সের রায়ান শেরকি বলেছেন, যারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায়, তাদের জানা উচিত—ফ্রান্স শুধু ফুটবল খেলে না, আমরা লড়াই করতেও জানি।
ফক্সবোরো স্টেডিয়ামে আজকের ম্যাচে শুধু সেমিফাইনালের টিকিট নয়, লড়াই হবে ইতিহাস, আত্মমর্যাদা ও বিশ্বকাপ স্বপ্নের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









