বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে তিন ম্যাচেই দাপুটে জয় নিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। তবে সেমিফাইনালের পথ পেরোতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা। শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দে, শেষ ষোলোতে মিসর এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘাম ঝরিয়ে জয় পেতে হয়েছে লিওনেল মেসিদের।
প্রতিপক্ষ যেই হোক, আর্জেন্টিনার জয় যে সহজ হবে না—এ বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার মতে, কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে লড়াই করে জয় পাওয়াই আর্জেন্টিনার পরিচয়।
সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পেরোনোর পর স্কালোনি বলেন, ‘আমরা জানতাম, আমাদের কষ্ট করে জিততে হবে। এটা আমাদের রক্তে মিশে গেছে, আমাদের ডিএনএতেই আছে। এটাই আমাদের মানসিক শান্তি দেয়।’
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচই ছিল উত্তেজনায় ভরা। শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে জয় পায় তারা। এরপর শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালেও সুইজারল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
স্কালোনির বিশ্বাস, ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা এবার কঠিন মুহূর্তগুলো সামলাতে দলকে সাহায্য করছে। তিনি বলেন, ‘কাতারে আমরা এতটা অভিজ্ঞ ছিলাম না, আমিও ছিলাম না। তখন এমন পরিস্থিতি সামলানো কঠিন ছিল। কিন্তু এখন আমরা জানি প্রতিপক্ষের চাপ কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, সমতায় ফেরার লড়াই কীভাবে করতে হয়। তাই আজ আমরা শান্ত থাকতে পেরেছি। এই দল কখনো হাল ছাড়ে না।’
সুইজারল্যান্ডের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘ওরা খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। একের বিপক্ষে এক লড়াইয়ে তারা দারুণ শক্তিশালী। টানা পাঁচ-ছয়টি পাস খেলাও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। সত্যিই আমাদের অনেক ভুগতে হয়েছে।’
খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব দিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। তারা পুরো প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। আমরা একটি দল, আমরা ঐক্যবদ্ধ। আর এটাই প্রমাণ করে ফুটবল কতটা কঠিন খেলা।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









