ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল জয়ের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ-সংক্রান্ত বিতর্কিত একটি ব্যানার নিয়ে উদ্যাপন করায় ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা।
বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে মাঠের মাঝখানে একটি ব্যানার হাতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসোকে।
ব্যানারে লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আর্হেন্তিনাস’ যার অর্থ ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড) আর্জেন্টিনার’। এ সময় দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড়কে ব্যানারটি নিয়ে উদ্যাপন করতে দেখা যায়। এর আগে ব্যানারটি দর্শকসারিতেও প্রদর্শিত হয়েছিল।
ফিফা এবং ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)-এর বিধিমালা অনুযায়ী, মাঠে রাজনৈতিক, অপমানজনক বা বৈষম্যমূলক বার্তাসংবলিত ব্যানার, পতাকা কিংবা প্রতীক প্রদর্শন নিষিদ্ধ। বর্ণ, ধর্ম, ভাষা, জাতীয়তা বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে—এমন যেকোনো বার্তার ক্ষেত্রেই কঠোর অবস্থান নেয় ফিফা।
এ ছাড়া খেলোয়াড়দের এমন কোনো অন্তর্বাস বা পোশাক প্রদর্শনেরও অনুমতি নেই, যেখানে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান, বার্তা বা ছবি থাকে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের লোগো ছাড়া অন্য কোনো বিজ্ঞাপনও প্রদর্শন করা যায় না।
এসব বিধি লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা দলের বিরুদ্ধে টুর্নামেন্ট আয়োজক, জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কিংবা ফিফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
সাধারণত ম্যাচ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে ফিফা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এ বিষয়ে ফিফার মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ‘লাস মালভিনাস’ নামে অভিহিত করে এবং দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন এই দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৮৩৩ সালে যুক্তরাজ্য দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। পরে ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল আর্জেন্টিনা দ্বীপটি দখলের চেষ্টা করলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৪ জুন পর্যন্ত চলা ওই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করে। সংঘাতে তিনজন বেসামরিক নাগরিক, ২৫৫ জন ব্রিটিশ এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যানারটি যদি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে তা ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
এর আগে, গত জুনে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালত বিশ্বকাপে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা প্রদর্শনের ওপর ফিফার আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









