বিশ্ব ফুটবলের নজর ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে ব্যস্ত, তখন ইতালিয়ান ফুটবলের অন্দরমহলে চলছে অন্য এক ব্যস্ততা। ইউরোপের ফুটবল মানচিত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে বার্সেলোনাই হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে এক নাম—পেপ গার্দিওলা।
২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮টি জাতীয় দল যখন নিজেদের স্বপ্নপূরণের লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন ইতালি ব্যস্ত জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নতুন করে সাজাতে। সেই পুনর্গঠনের দায়িত্বে রয়েছেন তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি—ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি জিওভান্নি মালাগো, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি এবং উপদেষ্টা লিওনার্দো।
ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম স্কাই ইতালিয়া জানিয়েছে, মালদিনি ও লিওনার্দো সপ্তাহান্তে বার্সেলোনায় অবস্থান করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি বিশ্লেষণ করে তাদের এই সফরের বিষয়টি সামনে আনে সংবাদমাধ্যমটি। তাদের স্পেন যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল এমন এক স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা, যা কিছুদিন আগেও অনেকের কাছে অসম্ভব মনে হতো—পেপ গার্দিওলাকে ইতালি জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়ে আসা।
ম্যানচেস্টার সিটির দীর্ঘ ও সাফল্যমণ্ডিত অধ্যায় শেষ করে বর্তমানে নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধানে রয়েছেন গার্দিওলা। অসংখ্য শিরোপা জয়ের পরও তার মতো প্রতিযোগিতা প্রিয় কোচের কাছে নতুন কোনো লক্ষ্যের আকর্ষণ কমে না। আর ইতালির ফুটবল ঐতিহ্য ও দেশের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে।
মালদিনি ও লিওনার্দো মনে করছেন, ইতালির জাতীয় দলের বেঞ্চে এমন একজন ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন, যিনি শুধু কৌশলগত দক্ষতাই নয়, পুরো ফুটবল সংস্কৃতিকে নতুন দিশা দিতে পারবেন। আর সেই মানদণ্ডে গার্দিওলার চেয়ে বড় নাম খুব কমই আছে।
বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। তবে সূত্রের দাবি, গার্দিওলা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং আগ্রহও দেখিয়েছেন। মালদিনি ও লিওনার্দোর প্রতি তার শ্রদ্ধা দীর্ঘদিনের। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ২০০৯ সালেও, যখন বার্সেলোনার কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর গার্দিওলা সেই ট্রফি উৎসর্গ করেছিলেন সদ্য অবসর ঘোষণা করা এসি মিলানের কিংবদন্তি পাওলো মালদিনিকে।
গার্দিওলার নাম এখন স্বাভাবিকভাবেই ইতালির কোচ হওয়ার সম্ভাব্য তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। সেই তালিকায় রয়েছেন আরও কয়েকজন বড় নাম—রবার্তো মানচিনি, আন্তোনিও কন্তে এবং আন্দ্রেয়া পিরলো।
তবে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগো আপাতত প্রত্যাশার পারদ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখছেন। স্কাই স্পোর্ট ২৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“পাওলো মালদিনি ও লিওনার্দোকে আমাদের সঙ্গে যুক্ত করতে আমার দুই সপ্তাহ সময় লেগেছে। কারণ তারা শুরু থেকেই এই প্রকল্প নিয়ে খুব আগ্রহী এবং দায়িত্বশীল ছিলেন। তারা আমার পরিকল্পনার প্রতিটি দিক ভালোভাবে বুঝতে চেয়েছেন। মালদিনি ও লিওনার্দোর সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব নেই; বরং আমরা একসঙ্গে বিস্তারিত বিষয় নিয়ে কাজ করছি। আরও কয়েক দিন ধৈর্য ধরুন, সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
কোচের তালিকা কি শুধু মানচিনি ও পিরলো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ—এমন প্রশ্নের জবাবে মালাগোর উত্তর ছিল তাৎপর্যপূর্ণ, “আরও কিছু সম্ভাব্য নাম থাকতে পারে।”
ইতালির ফুটবল এখন অপেক্ষায়। বিশ্বকাপের আলো যখন মাঠে, তখন আজ্জুরিদের ভবিষ্যতের নতুন গল্প লেখা হচ্ছে বার্সেলোনার আলোচনার টেবিলে। আর সেই গল্পের সবচেয়ে বড় চরিত্র হতে পারেন পেপ গার্দিওলা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









