যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। গতকাল সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণের পর তিনি বাকিংহাম প্যালেস থেকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে যান।
সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে তিনি প্যালেস ত্যাগ করেন। স্টারমারের বিদায়ের পর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বাকিংহাম প্যালেসে পৌঁছান। সেখানে রাজা তাঁকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানান। সেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হন।
গত শুক্রবার যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হন অ্যান্ডি বার্নহাম। বার্নহাম দায়িত্ব নিলে এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাবেন যুক্তরাজ্যের ভোটাররা। শুক্রবার লেবার পার্টির বিশেষ সম্মেলনে নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের মনে আবার আশা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়র। তিনি বলেন, ‘মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগের অপেক্ষা করছে। আমরা তাদের সেই আশা ফিরিয়ে দিতে যাচ্ছি।’বার্নহাম বলেন, ‘কী করতে চাই তা খুব ভালো করে জানি। আই হ্যাভ আ প্ল্যান। আমি আপনাদের সবার ওপর বিশ্বাস রাখি এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা এটি সফল করতে পারব।’
৫৬ বছর বয়সী এই নেতা কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হলেন। লেবার পার্টির এমপিরা মনে করছেন, নাইজেল ফারাজের অভিবাসনবিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’-কে নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে বার্নহামই সবচেয়ে বড় ভরসা। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রিফর্ম ইউকের বিপরীতে ভরাডুবি হয় লেবার পার্টির। এরপর নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও অর্থনৈতিক সংকটের চাপে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন স্টারমার। কাছাকাছি সময়ে একটি আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বার্নহাম পার্লামেন্টের সদস্য হন। রাজনৈতিক এই ডামাডোলের মধ্যেই তাঁকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বাকিংহাম প্যালেস থেকে বেরিয়ে বার্নহ্যাম ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেখানেই প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ বক্তব্যে কিয়ার স্টারমার তাঁর উত্তরসূরি বার্নহ্যামের সফলতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি সৌজন্যের সঙ্গে, হাসিমুখে এবং আমাদের অর্জন নিয়ে গর্বিত অবস্থায় বিদায় নিচ্ছি।’
ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন সরকারের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, বার্নহ্যামের প্রথম ভাষণ শোনার জন্য তাঁর সমর্থকরা গতকাল ডাউনিং স্ট্রিটে জড়ো হন। নতুন মন্ত্রিসভায় বিদায়ী সরকারের কতজন সদস্য থাকবেন, সেটি নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। বার্নহ্যামের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের চিফ অব স্টাফ কেভিন লি–কেও সেখানে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। ডাউনিং স্ট্রিটে ভাষণ দেওয়ার পর বার্নহ্যামের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যে বিদায়ী সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে।
ব্রেক্সিট-পরবর্তী এক দশকে এটি যুক্তরাজ্যের আরেকটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে গত চার বছরে দেশটির পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হলেন। বর্তমানে ডাউনিং স্ট্রিটে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা চলছে। নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









