বিশ্বকাপসহ ফিফার শীর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ফিফা। বিশ্বজুড়ে ফুটবল সংস্থা, সদস্যদেশ, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের তীব্র বিরোধিতার মুখে শুক্রবার (৩১ জুলাই) পরিকল্পনাটি বাতিলের ঘোষণা দেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ফিফার পরিকল্পনা ছিল, বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা। এর প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল সংস্থাটির। এই অর্থ বৈশ্বিক ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছিল।
তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এটিকে ফুটবলের ঐতিহ্যের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দেয়। প্রস্তাব প্রত্যাহার না করলে ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জনের হুঁশিয়ারিও দেয় তারা।
পরে উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল কনফেডারেশন কনক্যাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) উয়েফার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। তিন কনফেডারেশনের মোট ১৪৩ সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ফিফার ২১১ সদস্যের বড় একটি অংশকে প্রতিনিধিত্ব করায় প্রস্তাবটি অনুমোদনের সম্ভাবনা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে।
বিতর্কের মধ্যে ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস করডেরোও পদত্যাগ করেন। তিনি পরিকল্পনাটিকে ‘ফুটবলের জন্য একটি খারাপ চুক্তি’ হিসেবে মন্তব্য করেন। ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুখও উদ্যোগটি নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেন।
শুরুতে সমালোচনা উপেক্ষা করে ফিফা জানিয়েছিল, তারা প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তাব অনুমোদন করলে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায় করতে পারেনি সংস্থাটি।
শুক্রবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, বিভিন্ন পক্ষের মতামত শোনার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন, প্রকল্পটি এমন বিভেদ সৃষ্টি করেছে যা এর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফিফার উদ্দেশ্য ঐক্যবদ্ধ করা ও ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানো—এই অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনার ফিফার উদ্যোগ আপাতত থেমে গেল। বিশ্ব ফুটবল পরিবারের বড় অংশের ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার মুখে কয়েক দিনের মধ্যেই পরিকল্পনাটি বাতিল হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ফুটবল অঙ্গনে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









