বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের নয়, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাই যৌথভাবে নিয়েছেন এমনটাই জানিয়েছেন আসিফ নজরুল।
এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকারই ক্রিকেটারদের ভারতে পাঠাচ্ছে না। তবে প্রায় তিন সপ্তাহ পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ছিল বোর্ড ও ক্রিকেটারদের সম্মিলিত।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রীয় মাঠ উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিসিবির ২ কোটি টাকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আসিফ নজরুল বলেন, কোনো অনুশোচনা বা প্রশ্নের সুযোগ নেই। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ও ক্রিকেট বোর্ড। তারা দেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আত্মত্যাগ করেছে। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর চাপের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করতে চাননি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এরপরই ভার্চুয়াল বোর্ড সভার আয়োজন করে বিসিবি।
ওই সময় সিলেটে বিপিএল খেলায় ব্যস্ত জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। এরই মধ্যে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভারত থেকে ভেন্যু সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন আসিফ নজরুল।
শুরুতে বিসিবি নমনীয় অবস্থানে থাকলেও পরে সরকারের সিদ্ধান্তে অবস্থান বদলায় বোর্ড। আইসিসিকে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়। বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠকেও নিজের অবস্থান অপরিবর্তিত রাখেন আসিফ নজরুল।
দুই দফা চিঠি চালাচালির পরও সমাধান না হওয়ায় আইসিসি একটি সভা ডাকে। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে শুধু পাকিস্তান ভোট দেয়। শেষ পর্যন্ত আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয় বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতে গিয়েই খেলতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক করেন আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল অনড়। তখন তিনি বলেছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) লাহোরে পিসিবি, বিসিবি ও আইসিসির ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কিংবা জরিমানার শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আইসিসি নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে না।
বরং ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে আইসিসির একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হবে বাংলাদেশকে।
এ বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, বিসিবি যে ক্রিকেট ডিপ্লোমেসি করেছে, সেটার ফলেই আইসিসি আমাদের কোনো শাস্তি দেয়নি। বরং একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক করা হয়েছে। এটা দারুণ অর্জন। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এলে ১০ বারই নেওয়া উচিত।
টিআর


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









