বার্সেলোনার মাঝমাঠে এবার যোগ হলো অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও বিশ্বমানের সামর্থ্য। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রির আগমন শুধু একটি বড় দলবদল নয়, বরং স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারকে ঘিরে নতুন অধ্যায়ের শুরু। ৩০ বছর বয়সী এই তারকার হাতে উঠেছে ব্যালন ডি’অরও। ফলে বার্সেলোনার জন্য এই চুক্তির গুরুত্ব মাঠের বাইরেও অনেক।
রদ্রির চলাফেরাতেই যেন আলাদা পরিচয়। শার্ট গুঁজে খেলা, প্রায় ৯০ ডিগ্রি কোণে হাত রেখে দৌড়ানো এবং সামনের দিকে স্থির দৃষ্টি—এসবই তাকে মনে করিয়ে দেয় স্পেনের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেটসকে। স্পেনের ইতিহাসের অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারের সঙ্গে তুলনা পাওয়ার মতো সামর্থ্য তিনি ইতিমধ্যে দেখিয়েছেন। এবার বার্সেলোনায় এসে সেই ভূমিকাই আরও বড় পরিসরে পালন করতে হবে তাকে।
রদ্রিকে দলে পেতে বার্সেলোনার খরচ হচ্ছে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, যার মধ্যে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষ অর্থও রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা থাকলেও এই দলবদল এরই মধ্যে ফুটবল দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

রদ্রিকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বার্সেলোনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন আছে। বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদের তুলনায় বার্সেলোনার মাঝমাঠে এমন একজন খেলোয়াড়ের অভাব ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের দীর্ঘ সময়ের জন্য ছিটকে যাওয়া বার্সেলোনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। শেষ পর্যন্ত তারা রদ্রির জন্য পুরোপুরি ঝাঁপিয়ে পড়ে।
দুই বছর ধরে লা লিগায় দাপট দেখালেও বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা চ্যাম্পিয়নস লিগ। ১১ বছর ধরে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব তাদের অধরা। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বারবার কোনো না কোনো জায়গায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেই জায়গায় রদ্রির অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়ে ভরা ড্রেসিংরুমে তার উপস্থিতি দলের ভারসাম্য বাড়াবে।
এই দলবদলের আরেকটি দিক রিয়াল মাদ্রিদকে ঘিরে। মাদ্রিদও রদ্রিকে নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্প্যানিশ অধিনায়ক পাড়ি জমালেন বার্সেলোনায়। ফলে বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার জন্য এটি নিঃসন্দেহে রিয়ালকে দেওয়া একটি বড় বার্তা। যদিও মাদ্রিদের কর্তারা বিষয়টিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন না। টনি ক্রুসের অবসরের পর মাঝমাঠে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা তারা নিজেদের আক্রমণভাগের শক্তি দিয়েই পূরণ করার পরিকল্পনায় আছে।
তবু রদ্রির বার্সেলোনায় যাওয়া রিয়াল সমর্থকদের একাংশের কাছে সহজভাবে নেওয়ার মতো বিষয় নয়। স্পেনের জাতীয় দলের অধিনায়ককে দলে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল তাদেরও। বিশেষ করে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের আবেগের সময়ে রদ্রির মতো একজন খেলোয়াড়কে বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা সেই হতাশাকে আরও বাড়িয়েছে।

বার্সেলোনায় অবশ্য রদ্রিকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত তার জাতীয় দলের সতীর্থরাও। স্পেন দলের সাতজন সতীর্থকে তিনি নতুন ড্রেসিংরুমে পাশে পাবেন। ফারমিন তার ১৬ নম্বর জার্সি ছেড়ে দিয়েছেন রদ্রির জন্য। অন্যদিকে রদ্রি পেয়েছেন ফেরান তোরেসের ৭ নম্বর জার্সি।
তবে এই চুক্তিতে ঝুঁকিও আছে। দীর্ঘ ও কঠিন মৌসুমে ৩০ বছর বয়সী রদ্রির শারীরিক সক্ষমতা কতটা স্থায়ী থাকে, সেটিই বড় প্রশ্ন। কিন্তু তার মান, অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
বার্সেলোনা রদ্রিকে শুধু একজন মিডফিল্ডার হিসেবে নেয়নি; নিয়েছে নেতৃত্ব, স্থিরতা ও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা। এখন অপেক্ষা, ব্যালন ডি’অরজয়ী এই স্প্যানিশ অধিনায়ক কাতালান ক্লাবকে সেই বহু প্রতীক্ষিত ইউরোপীয় সাফল্যের পথে কতটা এগিয়ে নিতে পারেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









