একটি বই হাতে নেওয়ার মুহূর্তে আসলে কী ঘটে? একটি গল্পের ভেতর দিয়ে আমরা অন্য একজন মানুষের জীবন দেখতে শুরু করি। অন্য একটি দেশের ইতিহাস বুঝতে চেষ্টা করি। কখনো নিজের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস নিয়েও প্রশ্ন তুলি। এ কারণেই বই শুধু বই নয়—এটি কথোপকথনের শুরু।
স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় চার দশকের বেশি সময় ধরে সেই কথোপকথনকে বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাচ্ছে এডিনবরা ইন্টারন্যাশনাল বুক ফেস্টিভ্যাল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লেখক, কবি, সাংবাদিক, গবেষক, রাজনীতিক ও চিন্তকদের সঙ্গে পাঠকদের মুখোমুখি করার এই আয়োজন এখন আন্তর্জাতিক সাহিত্যজগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা।

২০২৬ সালের উৎসবটি শুরু হয়েছে ১৫ আগস্ট, চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত। ১৬ দিনের এই আয়োজনে প্রায় ৬০০ লেখক ৪১টি দেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন। থাকছে প্রায় ৬০০টি অনুষ্ঠান—উপন্যাস, কবিতা, রাজনীতি, বিজ্ঞান, ইতিহাস, সংগীত, সরাসরি পরিবেশনা থেকে শুরু করে শিশু ও তরুণদের জন্য বিশেষ আয়োজন।
কিন্তু এই বিশাল আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়তো অনুষ্ঠানের সংখ্যা নয়। বরং প্রশ্নটি হলো—মানুষ কি এখনও অন্যের কথা শুনে নিজের চিন্তা বদলাতে প্রস্তুত?
২০২৬ সালের উৎসবের মূল ভাবনা সেই প্রশ্নটিই সামনে এনেছে: ‘চেইন্জিং ইউর মাইন্ড’—চিন্তা বদলানো।
আজকের বিশাল আন্তর্জাতিক উৎসবটির শুরু কিন্তু বেশ ছোট পরিসরে। ১৯৮৩ সালে প্রথম এডিনবরা ইন্টারন্যাশনাল বুক ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়। তখন এটি ছিল যুক্তরাজ্যের মাত্র তৃতীয় সাহিত্য উৎসব। প্রথম বছর প্রায় ৩০ হাজার দর্শক ১২০ জন লেখকের অনুষ্ঠান উপভোগ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জন আপডাইক, পি ডি জেমস ও মেলভিন ব্র্যাগের মতো লেখক।
এরপর চার দশকের বেশি সময় ধরে উৎসবটি ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। একসময় এডিনবরার চার্লট স্কয়ার গার্ডেনস হয়ে ওঠে উৎসবটির পরিচিত ঠিকানা। সেখানে তাঁবু, বইয়ের দোকান, লেখক-পাঠকের ভিড় আর গ্রীষ্মের উৎসবের আবহ—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল একটি স্বতন্ত্র সংস্কৃতি।
তবে সময়ের সঙ্গে উৎসবের পরিসরও বদলেছে। ২০২৪ সাল থেকে এর প্রধান নতুন ঠিকানা। এডিনবার্গ ফিউচারস ইনস্টিটিউট (ইএফআই)। ২০২৬ সালের উৎসবও মূলত সেখানেই হচ্ছে। পুরোনো রয়্যাল ইনফার্মারি হাসপাতালের ভবনে তৈরি এই নতুন ভেন্যুতে পুরোনো স্থাপত্যের সঙ্গে আধুনিক ব্যবহারের এক অদ্ভুত মিশেল রয়েছে।
এডিনবরা বই উৎসবের অবদান শুধু বড় বড় লেখককে মঞ্চে আনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এর বড় অর্জন হলো সাহিত্যকে জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করা।
যুদ্ধ, রাজনীতি, অভিবাসন, জলবায়ু, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, মানসিক স্বাস্থ্য, পরিচয়, স্বাধীনতা—কোনো বিষয়ই এখানে সাহিত্যের বাইরে নয়। বইয়ের লেখককে তাঁর বইয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে সমাজ ও সময়ের বড় প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়।

উৎসবের আর্কাইভে সালমান রুশদির মতো লেখকের অনুষ্ঠানও রয়েছে। ২০১৩ সালের এক অনুষ্ঠানে রুশদি তার লেখকজীবন, ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশের পরের অভিজ্ঞতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছিলেন।
স্কটিশ সাহিত্যকেও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে উৎসবটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালের একটি কর্মসূচি ঘোষণার সময় স্কটিশ সরকারও উল্লেখ করেছিল যে ১৯৮৩ সাল থেকে উৎসবটি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের সঙ্গে সমকালীন স্কটিশ লেখকদের চিন্তা বিনিময়ের সুযোগ করে দিচ্ছে।
এডিনবরা উৎসবের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এটি কেবল আন্তর্জাতিক তারকাদের নিয়ে তৈরি একটি সাহিত্য-শো নয়।
শিশু, তরুণ, স্কুলশিক্ষার্থী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, হাসপাতালের রোগী, কারাবন্দী মানুষ—বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছেও বই ও লেখালেখি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে।
‘স্টোরি ন্যাশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে হাসপাতাল, কারাগার ও একাকিত্বে থাকা বয়স্ক মানুষের সঙ্গে লেখক ও শিল্পীদের যুক্ত করা হয়। ‘পেপার ট্রায়েলস’ প্রকল্পে স্থানীয় লাইব্রেরিগুলোর সঙ্গে কাজ করে বই ও সংস্কৃতিকে গণমানুষের আরও কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তরুণদের জন্য রয়েছে সৃজনশীল লেখালেখির নানান কর্মসূচি।
২০২৫ সালের আয়োজনের ব্যাপ্তির দিকে তাকালে দেখা যায়— সে বছর উৎসবে ৬৭৩টি অনুষ্ঠান হয়েছিল, অংশ নিয়েছিলেন ৬৮২ জন লেখক ও চিত্রকর। প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার সাইট ভিজিট হয়েছিল এবং ৭৬ হাজারের বেশি টিকিট ইস্যু করা হয়েছিল। ৪,৭০২ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ৭৭টি স্কুল থেকে উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন এবং প্রত্যেকে একটি করে বিনা মূল্যের বই পেয়েছেন।
উৎসবের আয়োজন এখন এডিনবরার সীমানাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে ১২টি স্কটিশ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এলাকার ৪০টির বেশি লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হয়েছিল। অনলাইনে ৬৩টি দেশের প্রায় ২০ হাজার দর্শক উৎসবে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখেছেন।

এবারের উৎসবের কেন্দ্রীয় ভাবনা ‘চেইন্জিং ইউর মাইন্ড’—চিন্তা বদলানো। ।
বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন যখন আরও তীব্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতবিনিময় যখন অনেক সময় যুক্তির বদলে উত্তেজনা তৈরি করে, তখন আয়োজকেরা প্রশ্ন তুলেছেন—আমরা কি সত্যিই অন্যের কথা শুনি?
অন্যের যুক্তি শুনে নিজের মত বদলানো কি দুর্বলতা? নাকি সেটিই চিন্তার পরিণত হওয়ার লক্ষণ?
এ ভাবনাকে কেন্দ্র করে ২০২৬-এর অনুষ্ঠানগুলোতে সাজানো হয়েছে, সামাজিক বিভাজন, তথ্য, ভুল তথ্য, মানুষের মস্তিষ্ক, বিজ্ঞান এবং গল্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষায়, লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিসর তৈরি করা যেখানে মানুষ প্রতিক্রিয়াশীল বিতর্কের বদলে গভীরভাবে শুনতে ও ভাবতে পারে।
২০২৬ সালের আয়োজনে বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মুখ রয়েছেন।
ফিনল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, উইকিপিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস, প্রযুক্তি লেখক কোরি ডক্টরো, লেখক মাইকেল পোলান এবং কবি ক্লডিয়া র্যাঙ্কিন অংশ নিচ্ছেন।

সাহিত্যের বড় আকর্ষণগুলোর একটি হতে যাচ্ছে জন গ্রিশাম ও ইয়ান র্যাঙ্কিনের যৌথ মঞ্চায়ন। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক গ্রিশামের সঙ্গে স্কটল্যান্ডের জনপ্রিয় ক্রাইম লেখক র্যাঙ্কিন—দুই ভিন্ন সাহিত্যিক জগতের এই সাক্ষাৎ নিঃসন্দেহে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
আছেন ম্যাগি ও'ফ্যারেল, অ্যান প্যাচেট, আলি স্মিথ, কলম টয়বিন, ম্যাট হেইগ, লুইস ওয়েলশ, বেন লার্নারসহ আরও অনেকে। ২০২৬ সালের ইন্টারন্যাশনাল বুকারজয়ী ইয়াং শুয়াং-জি-ও অংশ নিচ্ছেন।
এবারের উৎসবে কবিতাও বিশেষ জায়গা পেয়েছে। যুক্তরাজ্যের পোয়েট লরিয়েট সাইমন আরমিটেজ, ওয়েলসের পোয়েট লরিয়েট হানান ইসা এবং স্কটল্যান্ডের মাকার পিটার ম্যাকে এক মঞ্চে জাতীয় কবিসত্তা, শিল্পের সামাজিক ভূমিকা এবং কবিতার নিজস্ব শক্তি নিয়ে কথা বলবেন।
এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ কারণ এডিনবরা বই উৎসব কেবল উপন্যাস বা বেস্টসেলারকেন্দ্রিক আয়োজন নয়; কবিতা, মৌখিক পরিবেশনা ও সৃজনশীল শিল্পকেও সাহিত্যিক কথোপকথনের কেন্দ্রে রাখে।

২০২৬ সালে ‘গ্রেফ্রায়ার্স কার্ক’ প্রথমবারের মতো বই উৎসবের একটি ভেন্যু হয়েছে। সেখানে স্কটল্যান্ড টু দ্য ওয়াল্ড’ নামে নতুন ধারায় স্কটিশ লেখকদের আন্তর্জাতিক শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও পরিবেশনাকারীদের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
আলি স্মিথ, লেন পেনি, ক্যাথলিন জেমি ও উইলিয়াম ডালরিম্পলের মতো স্কটিশ লেখকদের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের এই সংযোগ উৎসবটির আন্তর্জাতিক চরিত্রকে আরও শক্তিশালী করছে।
২০২৬ সালের আরেকটি বড় বিষয় হলো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য।
ভুল তথ্য, অ্যালগরিদম, ডেটা এবং বৈশ্বিক বয়ান নিয়ে সাংবাদিক, গবেষক ও বিশ্লেষকেরা আলোচনা করছেন। দ্য নিউ ইয়র্কারের ফার্গাস ম্যাকইনটশ, ‘দ্য নিউজ এজেন্টস’-এর লুইস গুডঅল এবং সাংবাদিক ই-লিং লিউদের অংশগ্রহণে এই আলোচনা আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে।
এখানে বই উৎসব যেন একটি নতুন ভূমিকা নিচ্ছে—শুধু গল্প বলার জায়গা নয়, তথ্য যাচাই ও চিন্তার জায়গা হিসেবেও।

২০২৬ সালের সাহিত্য আলোচনায় আরেকটি অনিবার্য বিষয়—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।
এআই কীভাবে মানুষের কাজ, সৃজনশীলতা ও তথ্যজগতকে বদলে দিচ্ছে, তার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনায় থাকছেন এআই-প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা। মূল ডিপমাইন্ড দলের সদস্য স্টিভ ক্রসান, ফেসবুকের সাবেক পাবলিক পলিসি পরিচালক সারা উইন-উইলিয়ামস এবং ‘নেট নিউট্রালিটি’ শব্দবন্ধটির উদ্ভাবক টিম উ-সহ অন্যরা এআই ও এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কথা বলছেন।
এটি সময়ের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। একসময় বই উৎসবে মূল প্রশ্ন ছিল—লেখক কী লিখছেন। এখন প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে—কে লিখছে, কীভাবে লিখছে এবং ভবিষ্যতে ‘লেখক’ বলতে আমরা কাকে বুঝব?
বিশ্বসাহিত্যের আরেক দরজা—‘গ্লোবাল লিঙ্ক’
২০২৬ সালের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলোর একটি হলো ‘গ্লোবাল লিঙ্ক’।
তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ১৭টি দেশ থেকে ২০ জন সাহিত্য উৎসব পরিচালক ও সাংস্কৃতিক নেতা এডিনবরায় এসেছেন। এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ওশেনিয়া—পাঁচ মহাদেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই আয়োজন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব অথরস, গোথেনবার্গ বুক ফেয়ার, উবুদ রাইটার্স অ্যান্ড রিডার্স ফেস্টিভ্যাল, কেরালা লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল, এমিরেটস এয়ারলাইন ফেস্টিভ্যাল অব লিটারেচারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহিত্য আয়োজনের প্রতিনিধিরা।
এর উদ্দেশ্য শুধু সম্মেলন নয়। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক, যৌথ আয়োজন, লেখক বিনিময়, আন্তর্জাতিক সফর এবং নতুন কমিশনের সুযোগ তৈরি করাও এর লক্ষ্য। বিশেষভাবে স্কটিশ লেখকদের আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভবিষ্যতের পাঠক তৈরি করা যে কোনো সাহিত্য উৎসবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এডিনবরা এবার শিশু ও তরুণদের জন্যও বড় আয়োজন রেখেছে।
২০২৬ সালে শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য ১৫০টির বেশি অনুষ্ঠান রয়েছে। স্কুল কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীকে সহায়তা করার পরিকল্পনাও রয়েছে—বিনামূল্যের টিকিট, যাতায়াত ও বইয়ের ব্যবস্থা করে।

তরুণদের জন্য ‘ইয়ং এডাল্ট পোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় বছরও চলছে। জুনো ডসন, সামান্থা শ্যানন ও হলি বোর্নের মতো লেখকদের সঙ্গে পারফরম্যান্স, স্পোকেন ওয়ার্ড ও ইন্টার্যাকটিভ অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে, বিশেষ করে ৩০ বছরের কম বয়সী দর্শকদের কথা মাথায় রেখে।
এডিনবরা আন্তর্জাতিক বই উৎসবের ইতিহাসের দিকে তাকালে একটি পরিবর্তন স্পষ্ট হয়।
১৯৮৩ সালে যেখানে ১২০ জন লেখক ও ৩০ হাজার দর্শক নিয়ে যাত্রা শুরু, সেখানে আজ ৪১টি দেশের প্রায় ৬০০ লেখক, ৬০০ অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অনলাইন দর্শক—পরিসর বহুগুণ বেড়েছে।
কিন্তু মূল প্রশ্নটি বদলায়নি: বই কীভাবে মানুষকে একে অন্যের কাছে নিয়ে আসতে পারে?
বরং সময়ের সঙ্গে সেই প্রশ্ন আরও জরুরি হয়েছে।
রাজনৈতিক মেরুকরণ, যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট, ভুল তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভাজন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত উত্থানের সময়ে মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়তো আরেকজনের কথা শোনার ক্ষমতা। সেই জায়গাতেই এডিনবরা বই উৎসবের ২০২৬ সালের ‘চেইন্জিং ইউর মাইন্ড’—চিন্তা বদলানো, ভাবনাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
এডিনবরা ইন্টারন্যাশনাল বুক ফেস্টিভ্যাল নিজেকে শুধু বইয়ের উৎসব হিসেবে দেখে না। তাদের একটি সুন্দর ধারণা হলো—একটি বই একটি শুরুর জায়গা। সেখান থেকে শুরু হতে পারে কথোপকথন, বোঝাপড়া, বিতর্ক কিংবা কোনো পুরোনো ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবা।
চার দশকের বেশি সময় ধরে উৎসবটি সেই শুরুর জায়গাটিই তৈরি করে আসছে।
২০২৬ সালে তার পরিসর আরও বড়। বিশ্বসাহিত্যের তারকা লেখক আছেন, কবি আছেন, রাজনীতিক ও বিজ্ঞানী আছেন, এআই বিশেষজ্ঞ আছেন; আবার শিশু, তরুণ ও এমন মানুষও আছেন, যাঁদের কাছে হয়তো বই উৎসবের দরজা পৌঁছাত না যদি কমিউনিটি প্রকল্পগুলো তাদের কাছে যেত না।
তাই এডিনবরা বই উৎসবের সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো ৬০০ অনুষ্ঠান বা ৪১ দেশের লেখক নয়।
সাফল্য হলো—একটি বই থেকে একটি প্রশ্ন তৈরি করা, সেই প্রশ্ন থেকে একটি কথোপকথন শুরু করা, আর সেই কথোপকথনের মাধ্যমে হয়তো একজন মানুষকে তার নিজের চিন্তা নতুন করে দেখতে শেখানো।
২০২৬ সালের উৎসবের ভাষায়, সেটিই তো—চিন্তা বদলানোর শুরু।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









