কোচ বদলেছে, দলে এসেছে বেশ কয়েকজন নতুন ক্রিকেটার। কিন্তু পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের পুরোনো চিত্র বদলায়নি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনেই মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়েছে নতুন চেহারার পাকিস্তান। এজবাস্টনে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে মাত্র ৩৩.৫ ওভারে তাদের ইনিংস গুটিয়ে দেয় ইংল্যান্ড।
সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান দলে বড় পরিবর্তন আনা হয়। সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। নতুন করে দলে নেওয়া হয় পাঁচ ক্রিকেটারকে। তাদের মধ্যে তিনজনের এই ম্যাচেই টেস্ট অভিষেক হয়েছে। তবে এত পরিবর্তনের পরও মাঠে ফিরে এসেছে সেই পুরোনো ব্যাটিং ব্যর্থতা।
ইংল্যান্ডের পেসারদের সামনে শুরু থেকেই চাপে ছিল পাকিস্তানের ব্যাটিং। প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। দলীয় ৪৮ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় তারা। ১১ ব্যাটসম্যানের মধ্যে মাত্র তিনজন দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন।
দেড় বছর পর টেস্ট দলে ফেরা সাইম আইয়ুবও ব্যর্থ হন। ওলি রবিনসনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে তৃতীয় ওভারেই কোনো রান না করে ফেরেন তিনি। এরপর আজান আওয়াইস, আবদুল্লাহ শফিক ও অধিনায়ক শান মাসুদও দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। পরে জশ টংয়ের বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন বাবর আজম।
একপ্রান্ত ধরে পাকিস্তানের ইনিংস টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন সৌদ শাকিল। ৪৭ বলে সাতটি চারে ৪৩ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। এর আগে লর্ডস টেস্টেও দলের হয়ে লড়াই করে ৯৭ রান করেছিলেন তিনি। তবে জশ টংয়ের বলে বোল্ড হয়ে শাকিল ফিরে গেলে দ্রুতই শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
শেষ দিকে মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলী ২৬ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। এটিই ছিল পাকিস্তানের ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। তাদের ওই জুটির সুবাদেই কোনোভাবে ১৩৩ রানে পৌঁছায় পাকিস্তান।
ইংল্যান্ডের হয়ে জশ টং ৪২ রানে চারটি, ওলি রবিনসন ১৫ রানে তিনটি এবং জোফরা আর্চার ২৫ রানে তিনটি উইকেট নেন। রবিনসনের জন্য ম্যাচটি ছিল আরও বিশেষ। সাইম আইয়ুবকে আউট করে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
এ নিয়ে টানা পাঁচ ইনিংসে ২০০ রানের নিচে অলআউট হলো পাকিস্তান। এর মধ্যে টানা তিন ইনিংসেই তাদের সংগ্রহ ১৫০ রানের নিচে। হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানে হারের পর সিরিজের তৃতীয় টেস্টেও একই ব্যাটিং দুর্বলতা ভোগাল পাকিস্তানকে।
ম্যাচের আগে বাবর আজম বলেছিলেন, মাঠের বাইরের আলোচনা ভুলে দলের মনোযোগ এখন ক্রিকেটেই। তবে এজবাস্টনে প্রথম ইনিংসের পারফরম্যান্স বলছে, কোচ কিংবা খেলোয়াড় বদলালেও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ব্যাটিং সমস্যার সমাধান এখনও হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









