নিজেকে ফিরে পাওয়ার পথে আরেক ধাপ এগোলেন হুলিয়ান আলভারেস। তার করা একমাত্র গোলে শনিবার দেপোর্তিভো লা করুনিয়াকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এই জয়ে স্প্যানিশ লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমে দুই পয়েন্টে নেমে এসেছে দিয়েগো সিমিওনের দলের।
রবিবার ক্যাম্প ন্যুতে এল ক্লাসিকোয় মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা ও তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ। তার আগে জয় তুলে নিয়ে চাপটা প্রতিদ্বন্দ্বীদের দিকেই ঠেলে দিল আতলেতিকো। তবে তিন পয়েন্টের এই জয় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, আলভারেসের জন্য এর তাৎপর্য সম্ভবত তার চেয়েও বেশি।
মৌসুমের শুরুতে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড। গ্রীষ্মের দলবদলে ক্লাব ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এরপর নতুন মৌসুমে প্রথম কয়েকটি ম্যাচে আতলেতিকো সমর্থকদের দুয়োও শুনতে হয়েছে তাকে। মাঠের পারফরম্যান্স আর সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক—দুই জায়গাতেই তাই নিজেকে প্রমাণ করার প্রয়োজন ছিল আলভারেসের।
ধীরে ধীরে সেই দূরত্ব কমছে। সপ্তাহের মাঝামাঝি স্টুটগার্টের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১–১ গোলে ড্র করা ম্যাচে মৌসুমের প্রথম গোল পেয়েছিলেন তিনি। এবার দেপোর্তিভোর বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করে বুঝিয়ে দিলেন, ছন্দে ফেরার পথে আছেন তিনি।
মেত্রোপলিতানোতে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য স্বাগতিকদের জন্য স্বস্তির ছিল না। আতলেতিকোর মন্থর খেলায় বিরক্তি প্রকাশ করেন সমর্থকদের একাংশ। প্রথমার্ধে বরং গোলের ভালো সুযোগ পেয়েছিল দেপোর্তিভো। লরেঞ্জো আমাতুচ্চির বিপজ্জনক শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আতলেতিকো গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক। অন্যদিকে আক্রমণে তেমন ধার দেখাতে পারেনি সিমিওনের দল।
বিরতির পর অবশ্য বদলে যায় ম্যাচের চেহারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের দেখা পায় আতলেতিকো। আলেহান্দ্রো গ্রিমালদোর নিচু ক্রস দূরের পোস্টের দিকে ছুটে গেলে ঠিক জায়গায় ছিলেন আলভারেস। বলটি জালে পাঠিয়ে ব্যবধান গড়ে দেন আর্জেন্টাইন তারকা।
এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। সতীর্থদের দারুণ সমন্বিত আক্রমণে অ্যালেক্স বায়েনার পাস ধরে গোলরক্ষককে টপকে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন আলভারেস। কিন্তু দেপোর্তিভোর গোলরক্ষক লিও রোমান মুখ দিয়ে বল ঠেকিয়ে দেন।

আগের ম্যাচগুলোর তুলনায় এবার আলভারেসকে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ দেখিয়েছে। মৌসুমের শুরুতে শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও এই ম্যাচে তার গতিশীলতা ও আক্রমণে অংশগ্রহণে ছিল উন্নতির ছাপ।
ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় আতলেতিকো। আলেক্সান্ডার সরলথের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ দিকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় দেপোর্তিভোও। আদামা ত্রাওরের ক্রস থেকে কেভিন সানচেজ ভালো অবস্থানে বল পেলেও ভলি করেন লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে। একেবারে শেষ মুহূর্তে সানচেজের আরেকটি প্রচেষ্টা ওবলাক ঠেকিয়ে দিলে জয় নিশ্চিত হয় আতলেতিকোর।
দিনের আরেক ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়াকে ২–১ গোলে হারিয়েছে ভিয়ারিয়াল। দুই দলই ম্যাচ শেষ করেছে ১০ জন নিয়ে। পেপেলুর পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় ভ্যালেন্সিয়া। ৬৯ মিনিটে হেডে সমতা ফেরান যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার অ্যালেক্স ফ্রিম্যান।
এরপর ভিয়ারিয়ালের পাপে গুয়ে প্রতিপক্ষের হোসে গায়াকে কনুই দিয়ে আঘাত করে লাল কার্ড দেখেন। লিভারপুল থেকে ধারে খেলতে আসা ইংলিশ মিডফিল্ডার হার্ভি এলিয়টও দ্রুত দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে জর্জেস মিকাউতাদজে ভিয়ারিয়ালের হয়ে জয়সূচক গোল করেন। এই জয়ে মাঝের সারিতে উঠে এসেছে ভিয়ারিয়াল। অন্যদিকে হারতে থাকা ভ্যালেন্সিয়া নেমে গেছে ১৯তম স্থানে—অর্থাৎ অবনমন অঞ্চলে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









