সাজেকের চলমান সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও প্রশাসন। এ লক্ষ্যে হেডম্যান ও কারবারিদের সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিত্ব ও দাবিগুলো নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক ক্ষতিও বাড়ছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে হেডম্যান ও কারবারিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সংকট নিরসনে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং রাঙামাটির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
সভা শেষে ওয়াদুদ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, পাহাড়ের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শান্তি প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি বন্ধ, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি জানান, পাহাড়ের সংকট নিরসনে সরকার জাতীয় পর্যায়ে তিনটি কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান খোঁজা হবে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন, সার্কেলপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের কমিটিতে রাখা হয়নি কেন—এমন প্রশ্নে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, আলোচনায় একদিকে থাকবে সরকার, অন্যদিকে স্থানীয় অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। সবাইকে একই কমিটিতে রাখার ক্ষেত্রে আলোচনার কাঠামো বিবেচনা করতে হবে।
আন্দোলনের কারণে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও পরিবহন খাতের ব্যবসায়ী-শ্রমিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেন, সাজেকের সংকট নিরসনে আলোচনার বিকল্প নেই। সরকার সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চায়। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আলোচনায় আনার চেষ্টা চলছে। এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, কার সঙ্গে আলোচনা হবে, তা নির্ধারণ করা জরুরি। সরকার আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি; বরং সংলাপের মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর উপস্থিতি ও পারস্পরিক বিরোধ বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনকে আইনানুগভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
এদিকে সাজেকের আন্দোলনে ব্যবহৃত হেডম্যান-কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারটি সংগঠনের নয় বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন। এ বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে কারবারিদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে। এতে আন্দোলনের নেতৃত্ব, দাবিগুলোর প্রতিনিধিত্ব এবং সংলাপে কারা অংশ নেবেন, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সভায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, সামরিক ও বেসামরিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং হেডম্যান-কারবারিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাজেকের অচলাবস্থার প্রভাব পড়ছে পর্যটন, আবাসন, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়। পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকসহ পর্যটননির্ভর মানুষের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের প্রকৃত প্রতিনিধিদের চিহ্নিত করে সংলাপে বসানো, দাবিগুলো যাচাই এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রটি নিরাপদে চালুর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শেষ পর্যন্ত সংলাপ কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে সাজেকের সংকট নিরসনের অগ্রগতি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









