নতুন বল নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা নেয়নি বাংলাদেশ। বরং পুরোনো বলেই নাঈম হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিন ঘূর্ণিতে আস্থা রাখেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন নাঈম। তার ঘূর্ণিতে ২৪৫ রানেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায়। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে বলের হিসাবে দ্রুততম ৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন নাঈম। এ মাইলফলকে পৌঁছাতে তার লেগেছে ২ হাজার ৮৫৬ বল। এরপর আরও দুই উইকেট শিকার করেন ২৬ বছর বয়সী এই অফস্পিনার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ ১১ রানের মধ্যে হারায় ৪ উইকেট। এর মধ্যে তিনটি নাঈম এবং অন্যটি মিরাজের দখলে যায়।
এর আগে ক্যারিবীয়রা যেভাবে ব্যাটিং করছিল, তাতে তাদের লিড নেওয়াটাই স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। প্রথম সেশন শেষে ৬ উইকেটে ২১৩ রান ছিল তাদের সংগ্রহে। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৬০ বলে ৫টি চারে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে অপর প্রান্তে সতীর্থদের একের পর এক বিদায়ে ২৪৫ রানের বেশি এগোতে পারেনি ক্যারিবীয়দের ইনিংস।
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে শেষ দিকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ ২৭২ রানে অলআউট হয়। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুত রান তুলতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুইবার জীবন পাওয়ার পর অর্ধশতক তুলে নেন জন ক্যাম্পবেল। তবে তাকে বেশিদূর এগোতে দেননি মিরাজ। ৭৮ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৪ রান করে ফেরেন ক্যাম্পবেল। দিন শেষে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকা তেজনারায়ণ চন্দরপল শুক্রবার শুরুতেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন।
১৮৪ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৬ রান করার পর চন্দরপলকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। স্লিপে তার ক্যাচ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এর আগে জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েন চন্দরপল। গ্রিভসও একবার জীবন পেয়েছিলেন মুমিনুল হকের সহজ ক্যাচ ছাড়ার সুবাদে। পরে নাঈমের অফস্পিনে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। তার সংগ্রহ ছিল ১০৩ বলে ২টি চারে ৪৬ রান।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বাংলাদেশের হয়ে বেশিরভাগ ওভার করেন দুই অফস্পিনার নাঈম ও মিরাজ। তারা ভাগাভাগি করে বাকি ৪ উইকেট তুলে নেন। অভিষিক্ত ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার জশুয়া বিশপ নেমেই তিনটি চার মারেন। তবে ১৫ রানেই মিরাজের বলে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন তিনি।
এরপর শামার জোসেফকে ৪ রানে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ বানান নাঈম। জোমেল ওয়ারিকানকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ এবং জেইডেন সিলসকে শূন্য রানে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান এই অফস্পিনার।
নাঈমের ৪ উইকেট ছাড়াও মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম ২টি করে উইকেট নেন। হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম শিকার করেন ১টি করে উইকেট।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









