বিশ্বের অন্যান্য শহরের মতো দীর্ঘদিন ধরে মেগাসিটি ঢাকাও বায়ুদূষণের কবলে। বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় দূষণ কিছুটা কমলেও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় রাজধানীতে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ তো অনেক বৃষ্টি। আর বৃষ্টি হলে বায়ুর মান ভালো হবে, এমনটাই আশা করা যায়। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরী। বায়ুর মান ১৭৭। এই মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।
প্রতিদিনের মতো আজও বায়ুদূষণের এই চিত্র পাওয়া গেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের কাছে থেকে। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।
বায়ুদূষণ নিয়ে সতর্ক শুধু এ প্রতিষ্ঠানই করে না। বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবাদী, চিকিৎসক অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে করে আসছেন। আর দূষণ কমাতে গুচ্ছের প্রকল্পেরও কমতি নেই। কিন্তু তাতে ঢাকার দূষণ কমেনি, বরং বেড়েছে। এবার যেমন মে মাস চলে এল, বৃষ্টি হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন, কিন্তু বায়ুর মানের উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই।
আজ ঢাকার বেশি দূষিত এলাকাগুলো
আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে আছে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় থাকা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র (বিআইডিএস)। এ এলাকার বায়ুমান ২১৬। বায়ুর মান দুই শতাধিক হলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এমনি আরেক খুব অস্বাস্থ্যকর বায়ু নিয়ে আছে বারিধারা পার্ক রোড এলাকা। এখানকার বায়ুর মান ২০৯। এরপর দূষণের তালিকায় আছে যথাক্রমে গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটার (১৯৪), গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (১৮১), উত্তর বাড্ডা (১৬১), বেচারাম দেউড়ী (১৮০), গুলশান লেক পার্ক (১৭৮) ও বারিধারা লেক সাইড (১৭১)।
সুরক্ষায় নগরবাসী যা করবেন
আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকায় বায়ুর যে মান, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









