ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, সংগীত এমন একটি অনন্য সেতুবন্ধ, যা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। পাশাপাশি তিনি দুই দেশের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের দৃঢ় সম্পর্কই দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের মূল ভিত্তি বলেও মন্তব্য করেছেন।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যান্ড এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের ‘ট্রপিক লাইটনিং’ ব্যান্ডের যৌথ সংগীতানুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ২৫০ আমেরিকা সপ্তাহ’-এর কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিগত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিমানবাহিনী জাদুঘরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী মার্কিনীদের ভালো বন্ধু এবং অংশীদারদের সঙ্গে এই আয়োজনে থাকতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। যৌথ সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সামরিক সংগীতশিল্পীরা বিশ্বের অন্যতম সেরা কূটনীতিক। কারণ তারা সংগীতের সর্বজনীন ভাষার মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করেন। বিমানবাহিনী জাদুঘরকে এ আয়োজনের জন্য আদর্শ স্থান উল্লেখ করে ক্রিস্টেনসেন বলেন, এই স্থান দুই দেশের বিমানবাহিনীর ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের প্রতীক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যান্ড ও মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের ব্যান্ডের যৌথ পরিবেশনা দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় সম্পর্কেরই প্রতিফলন। রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই ব্যান্ডের সদস্যরা অনুষ্ঠানের দিনই প্রথমবারের মতো একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হলেও সংগীতের অভিন্ন ভাষার মাধ্যমে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে একে অপরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। ক্রিস্টেনসেন বলেন, এভাবে একসঙ্গে এসে তাদের যৌথ পরিবেশনা প্রমাণ করে, আমাদের সামরিক বাহিনী এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে কত দ্রুত দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব, যা উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর।
ক্রিস্টেনসেন আরো বলেন, এ ধরনের বিনিময় কর্মসূচি দেখিয়ে দেয় যে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা জনগণের সঙ্গে জনগণের গভীর সম্পর্কের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, এই মানবিক সম্পর্কই বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার সব ক্ষেত্রের ভিত্তি এবং তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করে চলেছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ফ্রিডম ২৫০ আমেরিকা সপ্তাহের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী সপ্তাহজুড়ে এবং বছরের বাকি সময়জুড়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









