বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী ও প্রধান বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম একটি দ্বিমাত্রিক শহর। পাহাড়, নদী ও সমুদ্রবেষ্টিত এই শহরটি 'প্রাচ্যের রাণী' হিসেবেও পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে আধুনিক নগরায়ণ এবং মেগাপ্রজেক্টের মাধ্যমে শহরটির বিস্তৃতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অত্যাধুনিক তকমা পেয়েছে। তবে এই আধুনিক নগরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা প্রকল্প সিটি করপোরেশন হাতে নিলেও, কার্যত বর্ষা এলেই বৃষ্টির পানিতে ডুবে। যার ব্যতিক্রম হয়নি চলতি বছরেও। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে গতকাল ফের ডুবছে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ নগরটি। ফলে নগরবাসী মনে করছে আধুনিক এই শহরের পানি হচ্ছে পানিশমেন্ট।
টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের পাহাড়ী এলাকা ডুবছে। চট্টগ্রাম নগরীতে সৃষ্টি হয়েছে জ্বলাবদ্ধতা। সড়কের পাশাপাশি রেল লাইন ডুবে যাওয়ায় নগরীর ষোলশহর এলাকায় আটকে আছে পর্যটন এক্সপ্রেস। খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একাধিক স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় এ সড়কে সরাসরি সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। টানা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন ৬৯ পর্যটক। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরও ১০ জন ট্যুরিস্ট গাইড। এছাড়াও টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ভারী বর্ষণে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি
চট্টগ্রাম নগরীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরার তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ অগাস্ট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সে হিসাবে, সোমবার বিকাল ৩টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় ৪২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি দেখল বন্দরনগরী। প্রবল এই বর্ষণের মধ্যে জোয়ারের কারণে নগরীর আরো কিছু এলাকা তলিয়ে গেছে। পানি উঠেছে অন্তত তিনটি সড়কে। টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় কক্সবাজারের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি আটকা পড়েছে চট্টগ্রাম নগরীতে।
চট্টগ্রাম নগরীর পোর্ট কানেকটিং সড়কের হালিশহর আবাসিক থেকে নয়া বাজার পর্যন্ত অংশ, অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের বড় দিঘির পাড় অংশ এবং আরাকান সড়কের সিঅ্যান্ডবি ও মৌলভী পুকুর পাড় এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে। এছাড়া কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, রামপুর, তিন পোলের মাথা, বাটালি রোড, কাস্টম হাউজ, জামালখান বাই লেইন, রহমতগঞ্জ, হালিশহর আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ বেপারীপাড়া কাঁচা বাজার, মৌলভীপাড়া এলাকা ও কাঠগড় মুসলিমাবাদ এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। নগরীর বেশির ভাগ খালের পানি উপচে সড়কে পানি চলে আসে। খালগুলোতে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধীনে নির্মিত স্লুইস গেটগুলো দুপুরে খুলে দেওয়া হয়। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা বলেন, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রামে ১৯৮৩ সালের ৪ অগাস্ট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সে হিসাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এর আগে রোববার সকাল থেকে বন্দরনগরীতে বৃষ্টি শুরু হয়। সেদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৪০ মিলিমিটার। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয় ২০৬ মিলিমিটার। মঙ্গলবার সকাল থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয় জোয়ার। তখন নগরীর কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে জোয়ার শুরু হয়। এতে ভারি বৃষ্টিতে নগরীতে জমা পানি খাল বেয়ে আর নদী ও সাগরে যেতে পারেনি। এরপর একে একে নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়তে থাকে। কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার বেশ কিছু বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে যায়।
পানির নিচে রেললাইন, এক হাজার যাত্রী নিয়ে আটকে আছে পর্যটক এক্সপ্রেস
রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহরে আটকে আছে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি আটকে পড়ে। বেলা সোয়া তিনটায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ট্রেনটি আটকে রয়েছে। কবে নাগাদ ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না রেলওয়ের কর্মকর্তারা। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল সোয়া ৬টায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি। দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন অতিক্রম করে। এরপর কিছু দূর গিয়ে ট্রেনটি আটকে যায়। ষোলশহর স্টেশনের পরই জানালিহাট স্টেশন। স্টেশনটির মাস্টার নেজাম উদ্দিন বলেন, রেললাইনে পানি জমে থাকায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আটকে পড়া পর্যটক একপ্রেসে এক হাজারের মতো যাত্রী রয়েছেন। স্টেশন মাস্টার নেজাম উদ্দিন আরও বলেন, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন এলাকাটি অতিক্রম করেছে। তখনো কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এরপর মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় রেললাইনের ওপর পানি জমতে শুরু করে। এতে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর সময় নির্ধারিত ছিল। এরই মধ্যে সে সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। রেললাইনে পানি সরার পর ট্রেনটি পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একাধিক স্থানে হাঁটুপানি, বন্ধ যানবাহন চলাচল
টানা ভারী বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একাধিক স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে এ সড়কে সরাসরি সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া একটানা ভারী বৃষ্টিতে মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে হেঁটে পানি ডিঙিয়ে চলাচল করছেন বাসিন্দারা।
গতকাল সকাল সাড়ে দশটায় খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, হাঁটু থেকে কোমরপানিতে সড়ক ডুবে গেছে। সেচের নালার স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি সরতে পারেনি। এ কারণে সড়ক ডুবে গেছে পানিতে। সড়কে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বন্যার পানি ডিঙিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। ওই সড়কে পানিতে আটকা পড়েন ব্যাংক কর্মকর্তা অশোক চাকমা। খাগড়াছড়ি থেকে জরুরি কাজে রাঙামাটি যাচ্ছিলেন তিনি। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি মাইসছড়ি এসে আটকা পড়েন। কোনো যানবাহন পেলে গন্তব্যে যাবেন বলে জানান। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। শুষ্ক খাবার এবং পর্যাপ্ত সুপেয় পানি রাখা হয়েছে। তা ছাড়া বন্যা হওয়ার আশঙ্কা এমন এলাকাগুলোতে আশপাশের স্কুলগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে তৈরি রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কক্সবাজারে ৩৩ ইউনিয়ন প্লাবিত
টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল ও নদীর পানি বাড়ায় রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকার অনেক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল এবং বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়ায় রামু ও চকরিয়ার অন্তত ১৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক শ ঘরবাড়ি। এ ছাড়া কক্সবাজার পৌরসভা, টেকনাফ, উখিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে রোববার দিবাগত রাতে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে আটজন রোহিঙ্গা এবং কক্সবাজার শহরের একজন বাসিন্দা নিহত হন। এ ছাড়া পেকুয়া উপজেলায় মাটির ঘর ধসে পড়ে এক শিশুর মৃত্যুর হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার স্বামী। এ ঘটনায় আরও অনেকে মাটিচাপায় হতাহত হতে পারেন আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দরিয়ানগর বড়ছড়া হাজীঘোনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত লিমা আক্তার (২৫) ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দরিয়ানগর বড়ছড়া হাজীঘোনা এলাকার জসিম উদ্দিনের স্ত্রী। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ফিশ ফ্রাই বিক্রি করে সংসার চালাতেন।
নাফাখুমে আটকা ৬৯ পর্যটক
এক টানা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন ৬৯ পর্যটক। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরও ১০ জন ট্যুরিস্ট গাইড। দুর্গম এ এলাকায় এক রাত কাটিয়ে তাঁরা কাছের রেমাক্রি ইউনিয়নের নিরাপদ জায়গায় পৌঁছালেও এখনো জেলা সদরে ফিরতে পারেননি। পর্যটক ও তাঁদের সঙ্গে যাওয়া লোকজনের সবাই সুস্থ আছেন।
উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকালে ৭৯ জন পর্যটক ও গাইড থানচি থেকে নাফাখুমে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাঁরা উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে পৌঁছেছেন। থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল আল ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পর্যটক ও গাইডরা বর্তমানে রেমাক্রিতে নিরাপদে রয়েছেন। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁরা সেখান থেকে লোকালয়ের দিকে রওনা হবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









