ভরা বর্ষায় দেশজুড়ে ডেঙ্গু এবং হাম ও এর উপসর্গের প্রকোপ বাড়ছেই। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু এবং ৩২৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। এ নিয়ে চলতি বছর রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন আট হাজার ৯৭৯ জন। আর এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৮ জন, যাদের ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে আর গত জুন মাসে প্রাণ গেছে সর্বোচ্চ ১৩ জনের। আর চলতি মাসে শনাক্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮৭৫ জনে। জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়, যা মাসওয়ারি হিসাবে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজন ও রোগটির উপসর্গে সারা দেশে মারা গেছে আরও ছয়জন শিশু। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে গত ১২২ দিনে হাম ও ভাইরাসজনিত রোগটির উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬৬ জনে। তাদের মধ্যে হামে আক্রান্ত ছিল ৯৫ জন আর সন্দেহজনক হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে বাকি ৬৭১ জন।
ডেঙ্গু বাড়ছে ভয়াবহ হারে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু সংক্রান্ত বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত সোমবার সকাল আটটা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া একজন নারী ঢাকা বিভাগের দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। অন্যদিকে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩২৯ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৩ জন বরিশাল বিভাগের। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটির হাসপাতালে ৪৬ জন ও উত্তর সিটির হাসপাতালে ৩৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়া সিটি করপোরেশন বাদে ঢাকা বিভাগে ৬২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১ জন, খুলনা বিভাগে ৪০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে নয়জন, রংপুর বিভাগে ছয়জন ও সিলেট বিভাগের একজন রয়েছেন। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় ৩২২ জনসহ এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন আট হাজার ১২২ জন। মশাবাহিত এই রোগটিতে চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত আট হাজার ৯৭৯ জন রোগীর মধ্যে ৬১.২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৮.৮ শতাংশ নারী। এই বছর মারা যাওয়া ২৮ জনের মধ্যে ৪২.৯ শতাংশ পুরুষ ও ৫৭.১ শতাংশ নারী।
সারা দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল এক লাখ দুই হাজারের মতো।
হাম উপসর্গে সাত শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের হাম বিষয়ক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত সোমবার সকাল আটটা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত হামে মৃত শিশুটি ঢাকা বিভাগের আর উপসর্গে মৃত ছয়জন শিশুর পাঁচজন ঢাকা ও অন্য শিশুটি সিলেট বিভাগের। জেলা হিসেবে ঢাকায় সর্বোচ্চ ছয়জন শিশু মারা গেছে। ওই একদিনে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৮৯৬ জন শিশু, যাদের ৮৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১২২ জন শিশুর শরীরে। এ নিয়ে চলতি বছরে রোগটির উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে আর ১৩ হাজার ৭৩৫ জন শিশুর শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৬ হাজার ৯৭৯ জনে।
অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৯০০ জন শিশু হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছে। সারাদেশে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক ও হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৯৬ হাজার ২৭ জন শিশু, যাদের ৯১ হাজার ৪৮৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









