রেলওয়ের টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগের প্রতিবাদে ৮ ঘণ্টার রেললাইন অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে বিভাগীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা থেকে রাজশাহী অভিমুখী ‘পদ্মা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ঘুষ গ্রহণের প্রতিবাদ করায় রাবি শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দিনকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে দায়িত্বরত টিটিই সুমন আলীর বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা গেইটের সামনে রেললাইন অবরোধ করে প্রতিবাদ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। টানা ৮ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অন্তত ১০টি ট্রেনের সূচি বিপর্যয় ঘটে এবং আরও কয়েকটি ট্রেনের সূচি বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সিডিউল বিপর্যয় হওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে— পদ্মা এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, মহানন্দা এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ও ঢালারচর এক্সপ্রেস। এছাড়া ঢাকা ও অন্যান্য এলাকা থেকে রাজশাহী অভিমুখী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের চলাচলও বিঘ্নিত হয়। সূচি বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়ে মধুমতী এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এক সভায় আলোচনায় বসেন বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা। সভায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত টিটিই সুমন আলী শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নিরপেক্ষ তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক ৫ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ৫টি সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিভাগীয় প্রশাসন। সিদ্ধান্তগুলো হলো- রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ৩ সদস্যের ও বিভাগীয় কমিশনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যের পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, গভীর রাতে রাজশাহীতে প্রবেশ করা ৩টি ট্রেনের বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা বিরতি দেওয়া, ট্রেনের সূচীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাটল বাস সেবা চালু, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ এবং আগামী ৬ আগস্ট সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে পুনরায় সভা।
সভা শেষে বেলা সোয়া ৩টায় সভার রেজুলেশন নিয়ে আন্দোলনস্থলে ফিরে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ও রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, “আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আমরা সার্বিক বিষয়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আমরা অপেক্ষমাণ যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাই। সাময়িক অসুবিধায় দীর্ঘ সমস্যার সমাধান আসবে বলে আশা করি।”
বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, “গতকাল রাতে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের ঘটনাটি নিয়ে আমরা দীর্ঘ সভা করেছি। সভায় শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৪টি দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। তাদের দাবি অনুযায়ী গভীর রাতে রাজশাহীতে প্রবেশ করা ট্রেনগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রাবিরতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ সভায় কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় কমিশনার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। তারা আলাদা দুটি কমিটি গঠন করেছেন এবং অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









