বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ‘বিনা তোষাপাট-০১’ জাতের উৎপাদন কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা এলাকায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উপকেন্দ্র, গোপালগঞ্জের উদ্যোগে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিনার মহাপরিচালক ড. শহিদুল হক ভূঞা।
এসময় তিনি বলেন, দেশের কৃষিকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করতে গবেষণার বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে বিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিনা তোষাপাট-০১ জাতটি কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় জাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই জাতের চাষাবাদ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষক অধিক ফলন ও লাভবান হবেন।
তিনি কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন।
গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৌরভ অধিকারীর সঞ্চালনা ও ফরিদপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ খায়ের উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ময়মনসিংহ বিনার পরিচালক (প্রশাসন ও সাপোর্ট সার্ভিস) ড. মো. লুৎফর রহমান মোল্লা, ‘বিনার গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদার, বায়োটেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রেজা মোহাম্মদ ইমন, উপপ্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান, বিনা উপকেন্দ্র, গোপালগঞ্জের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী এজাজুল করিম।
বিনা উপকেন্দ্র, গোপালগঞ্জের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বিনা তোষাপাট-০১’ একটি উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত জাতের পাট। প্রচলিত অনেক জাতের তুলনায় এটি স্বল্প সময়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এর উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক কম। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এ জাতের পাট থেকে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমে লাভের পরিমাণ বাড়বে।
তিনি আরো বলেন, “উন্নত জাতের এ পাটের চাষাবাদ মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র কৃষকদের সবধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।”
মাঠ দিবসে এলাকার কৃষক-কৃষাণী অংশ নেন।
‘বিনার গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’-এর অর্থায়নে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গোপালগঞ্জের সহযোগিতায় এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









