যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলা ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কয়েকশ নারী-পুরুষ। বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত করে পুলিশ।
এদিকে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের মেয়ে মেহজাবিন জান্নাত অনন্যা সিজোফ্রেনিয়া নামক মানসিক রোগে আক্রান্ত। তিনি ভারতের হায়দরাবাদসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (ঢাকা মহানগর উত্তরের কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও প্রচার মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার এ তথ্য জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জামায়াত মিডিয়া উইংয়েও দেওয়া হয় একটি পোস্ট।
জামায়াত মিডিয়া উইং থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে আরো বলা হয়, একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত নারীর বিরুদ্ধে মব উসকে দেওয়া হচ্ছে এবং তার বাসায় হামলা চালানো হচ্ছে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ইন্ধনে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে চলছে টার্গেটেড অপপ্রচার। মেহজাবিন জান্নাত অনন্যার চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু নথি এই পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।
অপরদিকে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। হামলার পেছনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মদত ছিল বলে দাবি করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ কন্যার আচরণে এমপির বাড়িতে হামলা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এ সংসদ সদস্য।
প্রত্যক্ষদর্শী শহরের নীলগঞ্জ এলাকার আব্দুস সালাম জানান, শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এমপি গোলাম রসূলের বাড়ি সংলগ্ন আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে সোমবার সকালে এমপির মেয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থী মেহজাবিন অনন্যা মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীকে মারধর করেন। সোমবার রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে মীমাংসা হয়। মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খোলার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ফের বন্ধ রাখতে বলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা এমপির বাড়ি লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায়। বিক্ষোভকারী রবিউল অভিযোগ করেন, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হলে দ্বিতীয়তলা থেকে গরম পানি ছোড়া হয়। এতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ের বিচার দাবিতে তারা দীর্ঘসময় সড়কে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এমপি গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ডিনা বলেন, তার মেয়ে অনন্যা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে বিভিন্ন সময় শিশুরা গিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে এখন মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দেননি।
এদিকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান জানান, বেলা একটার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। পুলিশ উভয়পক্ষকে বুঝিয়ে শান্ত করেছে। পরে এ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। হামলার পেছনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মদত ছিল বলে দাবি করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ কন্যার আচরণে এমপির বাড়িতে হামলা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এ সংসদ সদস্য।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাসায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। তিনি এ ঘটনার জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, একজন সংসদ সদস্যের বাসায় এ ধরনের হামলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও উসকানিদাতাদের অবিলম্বে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের এক মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তিনি ভারতসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মেয়ের একটি আচরণকে কেন্দ্র করে- যা এরই মধ্যে মীমাংসিত ইস্যু, এ ধরনের হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, সংসদ সদস্য ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও ‘মব’ উসকে দেওয়ার বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল বলে তাদের ধারণা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের আইনশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দুর্বৃত্তায়ন বা ‘মব’ সৃষ্টি করে দলটিকে বিতর্কিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে লক্ষ্যভিত্তিক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ এবং জনগণকে বিভ্রান্ত না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









