চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটে ইলিশের বাজারে দেশি ও ভারতীয় ইলিশের দামে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ভারত থেকে আসা ইলিশ তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হলেও সাগর ও নদী থেকে আসা দেশি ইলিশের দাম বেশি। তবে কয়েক দিনের মধ্যে সাগর থেকে পর্যাপ্ত ইলিশ এলে দেশি ইলিশের দামও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটের পাইকারি বাজারে গেলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ভারতীয় ইলিশের দীর্ঘ সময় পরিবহন ও সংরক্ষণের কারণে অনেক সময় মাছের স্বাভাবিক গুণগত মান নষ্ট হয়। কয়েক ঘণ্টা পর মাছ নরম হয়ে রং পরিবর্তনের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে বলে তারা দাবি করেন। তবে, তারা আশা করছেন, আগামী কয়েক দিনে সাগর থেকে পর্যাপ্ত ইলিশ নিয়ে ট্রলার ফিরলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে। তখন দেশি ইলিশের দামও কিছুটা কমে আসতে পারে। বর্তমানে ফিশারিঘাটে পাইকারি বেচাকেনা প্রায় শেষের দিকে। পাইকারি আড়তদারদের কাছ থেকে মাছ কিনে খুচরা বিক্রেতারা বড় ও মাঝারি আকারের ইলিশ নিয়ে বসেছেন। ক্রেতাদের উপস্থিতিও দেখা গেছে বাজারজুড়ে।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের দেশি ইলিশ কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি থেকে এক কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি এক হাজার ৫৫০ টাকা থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। ৫০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা থেকে এক হাজার ১০০ টাকার মধ্যে।
বাজারে বড় আকারের ইলিশের দাম আরও বেশি। প্রায় এক কেজি থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক কেজি ২০০ থেকে এক কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম এক হাজার ৫৫০ টাকা থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ফিশারিঘাটে ভারতীয় ইলিশও আসছে। এসব ইলিশ তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় ইলিশ স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে চট্টগ্রামের বাজারে আসছে বলে জানান তারা।
বিক্রেতা মফিদুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় ইলিশে ডিম বেশি থাকলেও দেশি ইলিশের স্বাদ ও গুণগত মান আলাদা। ভারতীয় ইলিশের দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের একটি অংশ সেটির দিকে ঝুঁকছেন। ফিশারিঘাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক দিন আগে সমুদ্রে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত থাকায় অনেক মাছ ধরার ট্রলার পর্যাপ্ত মাছ নিয়ে ফিরতে পারেনি। ফলে বাজারে দেশি ইলিশের সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে।
জেলে আলতাফ হোসেন বলেন, সাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার পর প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে যে মাছ ৯৫ হাজার টাকা মণে বিক্রি হয়েছে, পরে তা ৬০ হাজার টাকা মণেও বিক্রি করতে হয়েছে। এতে অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম করে মাছ ধরে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
জেলেদের তথ্য অনুসারে, বড় আকারের ইলিশ বর্তমানে মণপ্রতি প্রায় ৯০ হাজার টাকা, কিছুটা ছোট আকারের ইলিশ ৬০ হাজার এবং আরও ছোট আকারের ইলিশ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের আকার ও মান অনুসারে দামের পার্থক্য হচ্ছে। ব্যবসায়ী রবি চৌধুরী বলেন, সাগরে মাছ কম আসায় ইলিশের দাম কিছুটা বেশি। তবে আগামী দুই-চার বা ১০ দিনের মধ্যে ট্রলারগুলো পর্যাপ্ত মাছ নিয়ে ফিরলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমতে পারে।
তিনি বলেন, এক কেজি ওজনের ইলিশ ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মণ, ৭০০ গ্রামের ইলিশ প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মণ এবং আধা কেজি ওজনের ইলিশ প্রায় ৭০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছের মান ও আকারের ওপর ভিত্তি করে দর নির্ধারণ হয়।
ফিশারিঘাট ব্যবসায়ী সমিতির নেতা রবি চৌধুরী বলেন, ভারতীয় ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের ওপর দামের চাপ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, ভারতীয় ইলিশ দেখতে বড় হলেও দেশি ইলিশের মাংস, স্বাদ ও গুণগত বৈশিষ্ট্য আলাদা।
জেলে লুৎফর রহমান বলেন, দেশি ইলিশের শরীর তুলনামূলক ভরাট ও মাংস বেশি। অন্যদিকে ভারতীয় ইলিশের মাথা কিছুটা বড় হলেও আকার ও গঠনে দেশি ইলিশের সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে। বিক্রেতা রেনুআরা বেগম বলেন, ‘কেজি এক হাজার ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি। যে যার মতো বিক্রি করতেছে। যার ইচ্ছে কিনে নিয়ে যাচ্ছে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









