টানা সাড়ে চার বছর ধরে দেশের মানুষের প্রকৃত আয় নেতিবাচক। প্রতি মাসে যে হারে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না সাধারণ মানুষের মজুরি। ফলে হু হু করে কমছে সাধারণ ও সীমিত আয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য এবং অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ থেকে এই উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীর আশপাশে একটি শ্রমিক পরিবারের মাসিক ন্যূনতম ব্যয় ২৫ হাজার টাকার বেশি। এর মধ্যে বাসাভাড়া ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা, খাদ্য ব্যয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা, শিক্ষা ব্যয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা, চিকিৎসা ব্যয় ১ থেকে ২ হাজার টাকা, পরিবহন ব্যয় দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকা এবং অন্যান্য খরচ ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। এই হিসাব থেকে স্পষ্ট, বর্তমান ন্যূনতম মজুরি দিয়ে একটি শ্রমিক পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে খাদ্য ব্যয় কমাচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবা বা শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে আপস করছে।
টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকিাশিত সর্বশেষ মূল্যস্ফীতির হিসাবে দেখা যায়, গত জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। এর আগে মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পরে অর্থাৎ আগের ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমন অবস্থায় চলতি জুলাই মাস থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় মূল বেতন পেতে শুরু করবেন। এতে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীর বেতন বাড়বে। ফলে বাজারে আরেক দফা জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে, যা আবারও মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে। সরকারি চাকুরে নন এমন সীমিত আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি বিপাকে পড়বে।
মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৈষম্য নিয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান এদিনকে বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়লে সব শ্রেণির ওপর চাপ পড়লেও প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন। কারণ এই উচ্চমূল্যের বাজারে তাদের প্রকৃত আয় কমে যায়। ক্যাব সভাপতি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে উচ্চবিত্ত বা ধনীদের জীবনযাত্রায় তেমন প্রভাব পড়ে না, নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা মারাত্মক সংকটে পড়েন। সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তিনি আরো বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে বহু পরিবার মাছ, মাংস, ডিম ও ফলের মতো পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারছে না। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সস্তা ও কম পুষ্টিকর খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অপুষ্টি বাড়ছে।
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শিগগিরই মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা নেই। তার ওপর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, যা বাজারে প্রভাব ফেলবে। এত দীর্ঘসময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করায় সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। মানুষের প্রকৃত আয় দ্রুত কমেছে, খরচ করার সামর্থ্য সীমিত হয়েছে। মানুষ সংসার খরচ কাটছাঁট করতে গিয়ে বিনোদন, পর্যটনসহ নানা খাতে কম ব্যয় করছেন, যা ব্যবসা–বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন। এক. সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বাসাভাড়া, পরিবহন খরচ বাড়বে। এতে সরকারি খাতের বাইরের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই বেসরকারি খাতের মজুরি বা বেতন বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দিতে হবে। দুই. সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ড প্রচলন করা হচ্ছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন এই সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিন. বাজার সিন্ডিকেটসহ সার্বিক বাজার ব্যবস্থাপনায় তদারকি বাড়াতে হবে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে সারাদিন মিনতির কাজ করে আতাউরের আয় হয় ৫শ’-৬শ’ টাকার মতো। গত কয়েক বছরে তার আয়ে তেমন কোনো হেরফের হয়নি। কিন্তু করোনা মহামারির পর যখন চাল-ডালের দাম বাড়তে শুরু করে, তখন তাকে বাধ্য হয়ে খাবারের তালিকা ছোট করতে হয়। কুড়িগ্রামের এই দিনমজুর পরিবারের থালায় এখন আর আগের মতো মাছ-মাংস কিংবা ডিম ওঠে না। সময় গড়িয়েছে, কিন্তু আতাউরের সংসারের অভাব ঘোচেনি; বরং বেড়েছে। ৪২ বছর বয়সী এই যুবকের প্রতিদিনের সংগ্রাম শুধু তিন বেলার খাবার জোগাড় করা; আর সেই খাবার বলতে বেশিরভাগ দিনই শুধু ভাত আর ডাল-সবজি। নিজে অসুস্থ থাকলে কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলে মিনতির কাজ করতে পারেন না তিনি। কাজ না করলে কোনো আয়-রোজগার হয় না। কাজ না পেলে সংসার কীভাবে চলবে, তা ভেবে কূলকিনারা পান না আতাউর। তিনি বলেন, সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু আমাদের আয় তো বাড়েনি। আতাউরের মতো দেশের কোটি কোটি নিম্ন আয়ের মানুষ এখন চাপে আছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যে হারে বাড়ছে, তাদের আয় সে হারে বাড়ছে না। আয়ের তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। সরকারি হিসাব মতেই, টানা সাড়ে চার বছর ধরে দেশের মানুষের প্রকৃত আয় নেতিবাচক।
টানা সাড়ে চার বছর ধরে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরি বাড়েনি। প্রতি মাসে যত মূল্যস্ফীতি হয়, তার চেয়ে কম হারে মজুরি বাড়ে। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই এমন পরিস্থিতি চলছে। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। সীমিত আয়ের মানুষের বাজার থেকে জিনিসপত্র কেনার সামর্থ্য কমে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সীমিত আয়ের এবং মধ্যবিত্ত পরিবারকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দেশের ৮৬ শতাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনানুষ্ঠানিক খাতে হওয়ায় মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি হার না বাড়লে শ্রমিকশ্রেণি বা নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি ও কষ্ট বাড়ে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার আড়তের কর্মচারী মকবুল হোসেনের অবস্থাও আতাউরের মতোই। তিনি বলেন, দৈনন্দিন চাহিদাগুলোই পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। মকবুল জানালেন, তার সন্তানরা প্রায়ই ভালো খাবারের বায়না ধরে, কিন্তু তিনি তাদের আবদার রক্ষা করতে পারেন না। উল্টো সংসার চালাতে প্রতি মাসেই তাকে কারও না কারও কাছ থেকে ধার করতে হয়।
আতাউর বা মকবুলের মতো সংসার চালানো নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় বগুড়ার খেতমজুর সাইদুল ইসলামকে। ৪৫ বছর বয়সী এই কৃষিশ্রমিকের দুশ্চিন্তার কারণ ভিন্ন। কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার আয় কমে গেছে। সাইদুল জানান, আগে কৃষিমৌসুমে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতেন তিনি। আর এখন মাসে ১৪ হাজার টাকা আয় করাও কঠিন। সংসারের খরচ কমাতে হেন কোনো পথ নেই, যা তিনি করেননি। সামান্য যা জমানো টাকা ছিল, তা ভেঙে খেয়েছেন। পুষ্টিকর খাবার কেনা বাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে বা কোনো জরুরি দরকার পড়লে ঋণ করা ছাড়া উপায় থাকে না। এতে পুরনো ঋণের বোঝাই শুধু ভারী হচ্ছে। মকবুল ও সাইদুলের মতো মানুষগুলো দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতের সঙ্গে যুক্ত। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ৬ কোটি ৯০ লাখ কর্মজীবীর প্রায় ৮৪ শতাংশই এই খাতের কর্মী। তাদের একটি বড় অংশ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছেন কিংবা এরই মধ্যে দারিদ্র্যের ফাঁদে পড়ে গেছেন।
বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন রিয়াজ উদ্দিন। পরিবার নিয়ে থাকেন রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তাঁর কোনো বেতন বাড়েনি। ২০২৬ সালে বেতন ৫ হাজার টাকা বেড়ে ৪৫ হাজার টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, গত তিন বছরে বাসাভাড়া বেড়েছে তিনবার। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তিন–চার বছর আগে মাসে চার–পাঁচ হাজার টাকা জমাতে পারতাম, এখন পারি না। উল্টো মাসের শেষদিকে টানাটানি পড়ে। কোনো মাসে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। রিয়াজ উদ্দিনের মতো এমন অসংখ্য সীমিত আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে দু-তিন বছর ধরে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ল্যাবএইড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সানজিদা শারমিন মনে করেন, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও ফলের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বাদ দিয়ে এখন কেবল পরের দিন কাজ করার জন্য ন্যূনতম ক্যালরিটুকু গ্রহণ করছে। পুষ্টির সঙ্গে এমন আপস দীর্ঘমেয়াদে ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। সানজিদা খানম বলেন, অপুষ্টিতে ভোগা শ্রমিক কখনোই উৎপাদনশীল থাকতে পারেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমে যায়। তিনি আরো বলেন, নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা মানসিক ও মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পুষ্টিবিদের মতে, চাকরির অভাব পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করছে।
২০২২ সালের জানুয়ারির পর থেকে এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত কোনো মাসেই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি মজুরি বৃদ্ধির হার। প্রতি মাসে গড়ে যত মজুরি বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি ছিল তার চেয়ে বেশি। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর তখন গড় জাতীয় মজুরি হার ছিল ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। এরপরে কোনো মাসেই মূল্যস্ফীতির হারকে ছুঁতে পারেনি মজুরি হার। অর্থাৎ ৫৩ মাস ধরে মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে। সর্বশেষ জুন মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, আর মজুরি হার ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২০২২ সালের আগে বেশিরভাগ সময়ই
মূল্যস্ফীতির চেয়ে জাতীয় মজুরি হার বেশি ছিল। দেশের ৬৪ জেলা থেকে ৬৩ ধরনের মজুরিসংক্রান্ত তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ করে মজুরি হার গণনা করে বিবিএস। কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, নির্মাণ, কলকারখানা, পরিবহনসহ সব খাতের মজুরি ও বেতন দিয়ে আয় বাড়ল কি না, তা দেখা হয়। বিবিএসের হিসাবে দেশের
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ৮৬ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে হয়। দেশের ৫ কোটির বেশি নারী–পুরুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। ফলে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মজুরি না বাড়লে তাঁদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। মূল্যস্ফীতি এক ধরনের করের মতো। ধরুন, আপনার প্রতি মাসে আয়ের পুরোটাই সংসার চালাতে খরচ হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ জিনিসপত্রের দাম বাড়লে এবং সেই অনুযায়ী আয় না বাড়লে আপনাকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হবে কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কাটছাঁট করতে হবে।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের আধিপত্য। সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৪ শতাংশ এই খাতে; যা সংখ্যায় প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই শ্রম আইনের সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা কিংবা ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর বাইরে। তারা শ্রম আদালতের সুবিধা পান না, নেই নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা বা কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তা। কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প, পরিবহন ও সেবা খাত– সবখানেই তাদের উপস্থিতি থাকলেও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগেও এই বিশাল জনগোষ্ঠী কার্যত উপেক্ষিত থেকে গেছে। ফলে শ্রমবাজারে বৈষম্য আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে।
প্রাতিষ্ঠানিক খাতেও পরিস্থিতি খুব বেশি আশাব্যঞ্জক নয়। দেশের ১০২টি স্বীকৃত শিল্প খাতের মধ্যে মাত্র ৪৭টিতে সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি কার্যকর রয়েছে। বাকি খাতগুলোতে মজুরি নির্ধারণ হয় মূলত মালিকপক্ষের বিবেচনায়। ফলে একই ধরনের কাজ করেও ভিন্ন খাতে শ্রমিকরা ভিন্ন মজুরি পাচ্ছেন; যা শ্রমবাজারে অসাম্য বাড়াচ্ছে। যদিও নতুন কিছু খাতকে ন্যূনতম মজুরির আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে, তবুও কাঠামোগত ঘাটতি এখনো স্পষ্ট।
শ্রমিক নেতাদের মতে, শুধু মজুরি বৃদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থার সংস্কার এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা জরুরি। তাদের দাবি, শ্রমিকদের জন্য একটি কার্যকর ‘লিভিং ওয়েজ’কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে মজুরি নির্ধারণ হবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য পরিচয়ভিত্তিক কার্ড চালু করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার প্রস্তাবও রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









