ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ছয়তলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন নিহত ও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভবনটির ধ্বংসস্তূপে আরো অন্তত ৫০ জন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকাল রবিবার বেলা দেড়টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের কাছে বেলা ১টা ৩০ মিনিটের দিকে ভবনধসের খবর আসে। এর চার মিনিট পর দক্ষিণ ক্যাম্পাস থানায় এ বিষয়ে ফোন আসে। এর পর পরই স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এবং ভারী যন্ত্রপাতি, হাইড্রোলিক ট্যাঙ্কার ও বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে তিনজনের মরদেহ ও চারজনকে জীবিত উদ্ধার করে। বাকিদের উদ্ধারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভবন সংস্কার ও নিচে বেসমেন্ট নির্মাণের কাজ চলাকালে বিকট শব্দে এটি ধসে পড়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভূমিকম্পের মতো গর্জন শুনতে পেয়ে বের হয়ে দেখি চারদিক ধুলা ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। ভবনের দুর্বল স্তম্ভের কারণে নিচতলায় সংস্কারকাজের সময় এ ধস নামে। ভেতরে থাকা অনেকেই চাপা পড়েছেন।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ‘আমাদের বাঁচাও, আমাদের বাঁচাও’ বলে শিশুদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। সেখানে অন্তত ৩০ জন শিশুসহ অন্তত ৫০ জন আটকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, এ পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরো মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বাহিনীটি জানায়, ভবনটিতে বেসমেন্ট তৈরির পাশাপাশি সংস্কারকাজ চলছিল। নিচতলায় ভাড়ার জন্য জায়গা তৈরির উদ্দেশ্যে কাজ করা হচ্ছিল। ওপরের কাঠামোটি মজবুত হলেও নিচের স্তম্ভগুলো দুর্বল ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, সংস্কারকাজের সময় নিচের কাঠামো দুর্বল হয়ে ভবনটি ধসে পড়ে। এতে নিচে কাজ করা শ্রমিক ও শিশুরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। আটকে পড়াদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনাস্থলটি শিক্ষার্থী-অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় বেশ কিছু পিজি (পেয়িং গেস্ট) হোস্টেলের শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









