মোহাম্মদ বাবুল মিয়া। ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার দত্তের বাজার ইউনিয়নের ময়রা গ্রামের বাসিন্দা। সবশেষ ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও পরাজিত হয়েছেন। তবে এলাকায় চলতেন দাপটের সাথে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর পালিয়ে আসেন ঢাকায়। কোনো উপায় না পেয়ে জীবিকার তাগিদে পেশা হিসেবে বেছে নেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানোর। যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে নেন অটোরিকশা ভাড়া। দৈনিক ৩০০ টাকা জমার ভিত্তিতে পায়ে নেন অটোরিকশার প্যাডেল। সম্প্রতি রাজধানীর সেগুন বাগিচা থেকে মোহাম্মদপুর যাওয়ার পথে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় বাবুল মিয়ার। তিনি দেশের গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। তাঁর কথায় মনে হলো- তিনি রাজনীতি-সচেতন। এতে তাঁর সাথে কথা বলার কৌতূহল আরো বাড়ে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই কিছুটা কৌশলী তিনি। পরে অবশ্য নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করেন। জানান নিজের কষ্টের কথা।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন। অনেকেই ব্যবসা-চাকরি হারিয়ে পলাতক অবস্থায় বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। তবে তিনি বেকার না থেকে রিকশা চালানোকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ঢাকার ইট-পাথরের রাস্তায় রিকশা চালিয়ে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা আয় করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, পুলিশি নজরদারি ও মামলার হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের পরিচিত চেহারা লুকাতে অনেকে অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিংকে নিরাপদ বাহন ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। একই সঙ্গে আঁকছেন নাশকতার ছকও।
শুধু বাবুল মিয়া নয়। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার এড়াতে এবং আত্মগোপনের কৌশল হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে রিকশাচালকের ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উবার-পাঠাওয়ের পাশাপাশি এবার রাজধানীর অলিগলিতে অটোরিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে দিন কাটানোর প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে পলাতক এসব নেতাকর্মীর মধ্যে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই মাঠপর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও মামলার হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের পরিচিত চেহারা লুকাতে অনেকে অটোরিকশাকে নিরাপদ বাহন ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বিশেষ করে ধানমন্ডি ৩২ ও এর আশপাশের এলাকায় কিংবা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রিকশাচালকের ছদ্মবেশে সন্দেহভাজন অনেককে আটক বা ধাওয়া খেতে দেখা গেছে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে লম্বা সময় ধরে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ছিল একই হাল। ২০১৮ সালের ২১ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওই সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে দলটির তৎকালীন মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৬ জুনের পর সাংবাদিক ভাইয়েরা যেমন ফল বিক্রি করেছেন, আজ তেমনি আমাদের রাজনৈতিক কর্মীরা ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘তারা হকার হয়েছেন, তারা কোনো বাড়ির নাইটগার্ডের কাজ করেন। কেউ এলাকায় থাকতে পারছেন না, সবাই চলে এসেছেন যে-যার মতো করে। এই ঢাকা শহরেও তারা নিজ পাড়ায় থাকতে পারছেন না, অন্য পাড়ায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।’
একটা সময় বিএনপি কিংবা জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ঢাকার রাস্তায় রিকশা চালালেও এখন বদলেছে সেই দৃশ্যপট। রিকশা-অটোরিকশা, উবার, পাঠাওসহ বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং চালক এখন বদলেছে। এই পেশায় যোগ হয়েছে নতুন নতুন মুখ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঢাকায় রাস্তায় যে হারে অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল বেড়েছে, সেই হারে চালকও বেড়েছে। আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা-কর্মীরা এখন জড়িয়েছেন এই পেশায়। তারা এখন নিয়মিত ঢাকার রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রিকশা, উবার কিংবা পাঠাও চালক হিসেবে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, অনেক রাজনৈতিক কর্মী চিরচেনা পেশা ছেড়ে দিয়ে ছদ্মবেশে রিকশা ও রাইড শেয়ারিং চালকের জীবন কাটাচ্ছেন। যাতে সাধারণ মানুষের ভিড়ে তাঁদের সহজে চেনা না যায়। দলীয় তহবিল বন্ধ থাকা এবং আকস্মিক এই দুর্দিনে পরিবারের আর্থিক চাহিদা মেটাতে অনেকেই বাধ্য হয়ে এই শ্রমভিত্তিক পেশায় নেমেছেন। তবে এই ছদ্মবেশ সব সময় নিরাপদ থাকছে না। বিভিন্ন স্থানে রিকশাচালক বা সাধারণ মানুষের সন্দেহ হওয়ায় অনেককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার ঘটনাও ঘটছে। রাজনৈতিক পালাবদলের এই সময়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখন অনেক পলাতক কর্মীর কাছে লুকোনোর ও বেঁচে থাকার মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
শহরের ইট-পাথরের রাজপথে অ্যাপের একটি ট্যাপে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চাকাগুলো যাঁরা ঘুরিয়ে চলেছেন, সেই রাইড শেয়ারিং চালকরা আসলে কে? রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে উবার, পাঠাও, ইনড্রাইভ কিংবা ওবাহ-র মতো রাইড শেয়ারিং সেবাগুলো এখন শহুরে যাতায়াতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই পেশার পেছনের মানুষগুলো কারা, তা নিয়ে রয়েছে নানা গল্প। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বেশ কিছু নেতার দৈনন্দিন জীবনযাপনের চিত্রে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে।
গ্রেপ্তার এড়াতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং রাজধানী ঢাকার আনাচে-কানাচে আত্মগোপনে থাকা এসব নেতা এখন টিকে থাকার তাগিদে এবং হাতখরচ মেলাতে বেছে নিয়েছেন রাইড শেয়ারিং পেশা। উবার, পাঠাও কিংবা ইনড্রাইভের মতো অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল ও কার রাইড চালিয়ে তাঁরা ছদ্মবেশে দিন কাটাচ্ছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, পলাতক আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। রাইড শেয়ারিংয়ের আড়ালে অপরাধী চক্র বা শীর্ষ অপরাধীরা যাতে পালিয়ে থাকতে বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে বিষয়েও সাইবার ও মাঠপর্যায়ের টিমগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারা গা-ঢাকা দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে এবং পুলিশ বা সাধারণ মানুষের চেনা ছকের বাইরে থাকতে অনেকে রাজপথের রাজনীতির বদলে বেছে নিয়েছেন মধ্যবিত্তের এই জীবিকা। হেলমেট ও মাস্ক পরে রাইড শেয়ার করার কারণে চেনা মুখগুলোকেও এখন আর সহজে চেনার উপায় থাকে না। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, আত্মগোপনে থাকা নেতাদের একটি অংশ দেশের বাইরে পালাতে সক্ষম হলেও, যাঁরা ভেতরে রয়েছেন তাঁদের অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। হুন্ডির মাধ্যমে আসা তহবিল বা অনুদান ফুরিয়ে আসায় এবং দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এই নিম্নমধ্যবিত্তসুলভ জীবনযাত্রা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
রাজধানীর মালিবাগ এলাকার এক রাইড শেয়ারিং চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত মাসে তিনি একজন পরিচিত যুবলীগ নেতাকে রাইডার হিসেবে পান। হেলমেট ও মুখে মাস্ক থাকলেও কথা বলার একপর্যায়ে ওই নেতাকে চিনে ফেলেন তিনি। পরবর্তীতে ওই নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, সম্পদ ক্রোক এবং আত্মীয়স্বজন ও নেতাকর্মীদের অসহযোগিতার কারণে তাঁর বর্তমান আয়ের একমাত্র উৎস এই রাইড শেয়ারিং।
রাজধানীর কাকলীর মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা পাঠাও বাইক চালক আব্দুর রহমান দৈনিক এদিনকে বলেন, “আগে পরিবার নিয়ে গ্রামে বসবাস করতাম। গ্রামে মুদি দোকান ছিল। পাশাপাশি করতাম আওয়ামী লীগের রাজনীতি। ২০২৪-এর আন্দোলনে সরকার পতনের পরে হঠাৎ করেই ব্যবসার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। দেশের রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনের পর গ্রামে আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকায় আসি। শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ঢাকায় এসে চাকরি না পেয়ে নিজের বাইক দিয়ে রাইড শেয়ারিংয়ে এসেছি। সকাল থেকে দৈনিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা রাইড শেয়ারিং করেও সংসার চালাতে কষ্ট হয়।
আরেক চালক সজীব আহমেদ এদিনকে বলেন, আগে ব্যবসা করতাম। গ্রামে পুকুরে মাছ চাষ করে জীবন ভালোই চলছিল। এ ছাড়া ইজারা নিয়ে গ্রামে হাট পরিচালনা করতাম। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি নেতাদের দখলে চলে যায় হাটের ইজারা। গ্রামে কোনো আয় উন্নতি না থাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চলে আসি ঢাকায়। দীর্ঘদিন চাকরির বাইরে থাকায় শহরে এসে তেমন কাজ খুঁজে পাইনি। বাড়ি থেকে লোন করে টাকা নিয়ে বাইক কিনে নিজের মতো করে চালাই। কারোর কাছে চাকরির জন্য ঘুরতে হয় না। তা ছাড়া এই বয়সে আমাদের চাকরি দেবেই বা কে? দলের নেতারাও এখন আর খোঁজ নেন না। সব মিলিয়ে আয়ের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছি রাইড শেয়ারিং।’
শরীফ খান নামের আরেক চালক বলেন, ‘মহাখালীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি, যা বেতন তা দিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে নেতাদের কাছ থেকে কিছু কাজ পেতাম। এখন আর তা নেই। তাই মিরপুর থেকে অফিসে আসা ও যাওয়ার পথে যাত্রী বাইকে ওঠালে প্রতিদিন শ পাঁচেক টাকা অতিরিক্ত আয় করতে পারি। যা দিয়ে মাস শেষে কোনো রকম সংসার চালাতে পারি।’
তাদের মতো আরো কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দল (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতায় থাকার সময় এলাকায় যে বাইক ছিল তাঁদের আভিজাত্যের প্রতীক, সেটিই এখন অনেকের কাছে সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, অনেকেই আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে পুরোনো গাড়ি নিয়ে এই পেশায় নেমেছেন। কেউ কেউ নিজের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখতে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল বা অন্যের আইডি ব্যবহার করে রাইড চালাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, একসময় গ্রামের হাট-বাজার কিংবা রাজনৈতিক মাঠে যাদের দাপট ছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের একটি অংশের দেখা মিলছে রাজধানীর সড়কে হাতে মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেল, চোখে যাত্রীর অপেক্ষা। কেউ রাজনৈতিক পরিচয় হারিয়েছেন, কেউ চাকরি হারিয়েছেন, আবার কেউ জীবিকার তাগিদে সংসারের বাড়তি ব্যয় মেটাতে বেছে নিচ্ছে রাইড শেয়ারিং। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনেকের নতুন জীবিকার ঠিকানা এখন রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের বাইক।
রাজধানীর গুলশান, বনানী, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মহাখালী, গাবতলী, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, পল্টন, মগবাজার, উত্তরাসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং অফিস এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আগের তুলনায় বাইক রাইডারের উপস্থিতি বেড়েছে। শুধু তরুণ নয়, বিভিন্ন বয়সী মানুষও এখন যাত্রী পরিবহনের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় নামছেন। তাদের মধ্যে শিক্ষিত তরুণের সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো। কেউ চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের জন্য, কেউ চাকরি না পেয়ে, আবার কেউ ব্যবসা শুরুর মতো পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় বেছে নিয়েছেন রাইড শেয়ারিং। একসময় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নিজের বাইকে দু-একজন যাত্রী বহন করতেন অনেকে। এখন চিত্র বদলেছে। রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা বহু বাইকারের প্রধান পেশাই হয়ে উঠেছে যাত্রী পরিবহন। অর্থাৎ ব্যক্তিগত যানবাহন থেকে রাইড শেয়ারিংয়ের বাইক ধীরে ধীরে অনেকের জীবিকার বাহনে পরিণত হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা অনেক তরুণের কর্মসংস্থান ও আয়ের পথেও পরিবর্তন এসেছে। আগে স্থানীয় রাজনীতিকদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করে ভবিষ্যতে কোনো সুযোগ তৈরি হবে এমন প্রত্যাশায় থাকা একটি শ্রেণির তরুণ এখন ঢাকায় এসে জীবিকার নতুন পথ খুঁজছেন। তাদের অনেকেই রাইড শেয়ারিংয়ে যুক্ত হয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার যে প্রত্যাশা অনেকের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, বাস্তবতা বদলানোর পর সেই নির্ভরতার জায়গা সংকুচিত হয়েছে। ফলে ঢাকার মতো শ্রমবাজারকেন্দ্রিক শহরে এসে অল্প পুঁজিতে দ্রুত আয় করার সুযোগ হিসেবে মোটরসাইকেল রাইডিংকে বেছে নিচ্ছেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাইড শেয়ারিং সেবা কেবল যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করেনি, বরং দেশের তরুণ সমাজ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের কর্মসংস্থানেরও বড় সুযোগ তৈরি করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক খাতের বাইরে এই অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি বা গিগ ইকোনমি বর্তমানে শহুরে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে বিগত সময় বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার এড়াতে কৌশলে উবার-পাঠাও এবং অটোরিকশা চালিয়ে আত্মগোপনে ছিল। বর্তমানে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জীবিকার তাগিদে উবার-পাঠাওসহ রাইড শেয়ারিং পেশা বেছে নিয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









