সত্যিই এ এক অনন্য ঘটনা। ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘের সবুজ মার্বেল পাথরের সামনে সংস্থার সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন পিতা শহীদ জিয়াউর রহমান।
তারপর ১৯৯১ সালে স্বামীর স্থলাভিষিক্ত হন বেগম খালেদা জিয়া। সেই পরম্পরায় ৪৫ বছর পর একই ডায়াসে দাঁড়িয়ে সরকারপ্রধান হিসেবে লাল-সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্ব করে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সেই কারণে অনেকটা ‘নিজের আঙিনায়ই’ কথা বলার সুযোগ পাবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিগত বছরগুলোতে জাতিসংঘে লম্বা সময় ও সফরসঙ্গীর বিরাট বহর নিয়ে যেখানে সরকারপ্রধানরা প্রতিনিধিত্ব করেছেন সেখানেই অনন্য নজির স্থাপন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাত্র ২২ জন সফরসঙ্গী নিয়ে ৯৬ ঘণ্টার এক ঐতিহাসিক সফরে আজ রবিবার দিবাগত রাতে (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের ৮১তম যে সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন সেই অধিবেশনের সভাপতির চেয়ারেও তারই মন্ত্রিসভার সদস্য ড. খলিলুর রহমান এবার নেতৃত্ব দেবেন বিশ্বমঞ্চে। এসব মিলিয়ে প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতির আলোকে জাতিসংঘে এবার যে বার্তা দেওয়ার চেষ্টায় থাকবে, তার কেন্দ্রে থাকবে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, গণতান্ত্রিক শাসন, সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিশ্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক। ফলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের পর্ব শুরু হচ্ছে এমন এক সময়, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচয় নতুনভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে
আজ রাতে ঢাকা ত্যাগ করে আগামীকাল নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সূত্র জানায়, এক সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন মানেই যেন নিউইয়র্কমুখী বিশাল বহর। বিশেষ করে শেখ হাসিনার আমলে কোনো কোনো সফরে সংখ্যাটা তিনশর কাছাকাছি। শুধু বহর নয়, সফরও ছিল দীর্ঘ। ২০২৩ সালে জাতিসংঘ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনা ১৭ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়েন; যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ঘুরে দেশে ফেরেন ৪ অক্টোবর। এরপর সরকার বদলাল। এলেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মিতব্যয়িতার কথা শোনা গেল। কিন্তু জাতিসংঘ সফরের বহর সেখানেও ছোট হলো না প্রত্যাশামতো। ২০২৪ সালের সরকারি নথিতে সফরসঙ্গী ৮০ জনের বেশি। বেসরকারি হিসাবে শতাধিক! কিন্তু এবার সেই ২৯২ নয়। ১০০-ও নয়। মাত্র ২২ জন! ঠিকই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ সফরে সফরসঙ্গীর সংখ্যা এই সীমার মধ্যেই থাকছে। এতেই শেষ নয়, আরো চমক আছে।
প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র সফর ছিল ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের পর যাওয়ার কথা ছিল সানফ্রান্সিসকোয়। প্রবাসীদের অনুষ্ঠান, প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কর্মসূচি, সবই ছিল। কিন্তু সেখানে বাদ সাধেন প্রধানমন্ত্রী। কৃচ্ছ্র সাধনে বাদ দেন সানফ্রান্সিসকো সফর। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ ও প্রয়োজনীয় কর্মসূচি শেষ করে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতেই নিউইয়র্ক ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে ৯ দিনের সফর নেমে আসে ৪ দিনে। অতি ছোটকায় একটি প্রতিনিধিদল তার সাথে থাকছেন তার ব্যক্তিগত স্টাফ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কূটনীতিক ও সিকিউরিটির কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, অতীতে প্রধানমন্ত্রীরা জাতিসংঘ সফরে এসে বনভোজনের মতো উৎসবে মেতে উঠতেন। বহরে আসতেন দেড় শতাধিক নেতা, কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও পাইকপেয়াদা। বোন, ভাগ্নে, ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনি ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সফরে এসে ৯ বার জন্মদিনই পালন করেছেন। এমনও সফর ছিল, তিনি টানা ২১ দিন নিউইয়র্কে অবস্থান করেছেন। ঢাকা থেকে বিশেষ বিমান এনে প্রায় এক মাস জেএফকে বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এতে এভিয়েশন ডিপার্টমেন্টকে কয়েক লাখ ডলার দিতে হয়েছিল পার্কিং ফি হিসেবেই।
এসব ছাড়িয়ে এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ২ জুন ২০২৬ তিনি নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। অর্থাৎ এবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থিতি শুধু প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। একই সঙ্গে সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে একজন বাংলাদেশি থাকায় কূটনৈতিক দৃশ্যপটে ঢাকার গুরুত্বও বাড়বে।
গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় এর কিছু বাস্তব প্রতিফলনও দেখা গেছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে
সম্পর্ক সম্প্রসারণ, পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের বিশ্লেষণে এই প্রবণতাকে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক বৈচিত্র্যকরণের প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এখানে বাংলাদেশের জন্য মূল প্রশ্ন হলো-বহুমুখী সম্পর্ক কি কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়াবে, নাকি নতুন কোনো নির্ভরতা তৈরি করবে? একই বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে, সম্পর্কের বৈচিত্র্য বাড়ানোর মাধ্যমে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অর্জনের চেষ্টা কখনো কখনো নতুন ধরনের প্রতিশ্রুতি তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাকে সীমিতও করতে পারে।
জানতে চাইলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক-ডাচেসের সহকারী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটিজ স্টাডিজের (বিডস) নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান হোসাইন আনসারী দৈনিক এদিনকে বলেন, জুলাই বিপ্লবোত্তর গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের জাতিসংঘের এই সফর সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। একই পরিবারের তিনজন ব্যক্তি বাবা, মা এবং ছেলে জাতিসংঘের সবুজ মার্বেল পাথরের সামনে ইউএনজিএর সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতা দেওয়া সুযোগ পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোনো পরিবারের ক্ষেত্রে আসেনি। এক্ষেত্রে জিয়া পরিবার একটি রেকর্ড সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।
দ্বিতীয় হলো কৃচ্ছ্র সাধনের জন্য তিনি মাত্র ২২ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সম্মেলনে যাচ্ছেন। তবে এটিও খেয়াল রাখতে হবে যে গ্লোবাল প্রজেকেশনের কিছু বিষয় থাকে। তাই এটি যেমন আশাব্যঞ্জক তেমনি খেয়াল রাখতে হবে তিনি তার গ্লোবাল প্রজেকশনটা বিভিন্ন সাইড ইভেন্টের বৈঠকগুলো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণও।
তিনি বলেন, আশা করি এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যু, আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্সের যে ক্ষতিকর প্রভাব এবং বৈশ্বিক যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কিভাবে একটি শান্তিপূর্ণ নেগোশিয়েটরের ভূমিকা পালন করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে তিনি জাতিসংঘে বক্তব্য রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে যেমন আশার দিক আছে তেমনি হতাশার চিত্রও দেখা যায়। কারণ, সরকার কিছুটা আমলা নির্ভর হয়ে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে। যেসব আমলা অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। গত ১৫ বছরে কোনো সরকার এতটা আমলা-নির্ভর সফর করেনি। তারা (আমলা) যেভাবে বলছেন সেভাবেই সফর হচ্ছে। কারণ, এখানে সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততা দৃশ্যমান মনে হচ্ছে না। অতীতে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যেভাবে সম্মেলনের ভেতরে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ও অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করতে পারতেন, এবার সেই সুযোগও থাকছে না। এসব বিষয় একটা রাজনৈতিক সরকারের চরিত্রের সাথে যায় না।
সূত্র জানায়, জাতিসংঘে এবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হবে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই সময় কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা। ভৌগোলিক কারণে ভারতের গুরুত্ব বাংলাদেশের জন্য আলাদা। সীমান্ত, নদীর পানি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, জ্বালানি, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং আঞ্চলিক কৌশলগত বাস্তবতায়ও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।
এ ছাড়া এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য সুবিধা, রপ্তানি প্রতিযোগিতা, ওষুধশিল্প, মেধাস্বত্ব এবং বাজার সুবিধার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। ইউএনটিএডির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এলডিসি-ভিত্তিক বাণিজ্য সুবিধা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তাই জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের দাবি হতে পারে-উত্তরণ যেন উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত না করে; বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মসৃণ উত্তরণ, বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।
অপরদিকে তারেক রহমানের জাতিসংঘ ভাষণে আরেকটি নতুন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে-বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফেরত আনা। জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে অর্থ পাচার ও সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানাতে পারেন।
এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কারকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। অর্থ পাচার শনাক্তকরণ, সম্পদ জব্দ, তথ্য বিনিময় এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বহুপাক্ষিক আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার দাবি উঠতে পারে। এবার বাংলাদেশের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত সুযোগ রয়েছে। ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে সব সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা তৈরির কথা বলেছেন। তাঁর ঘোষিত কর্মসূচিতে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু, মানবাধিকার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তি এবং জাতিসংঘ সংস্কার রয়েছে।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে যে পরিচয় তুলে ধরতে চাইছে, তার কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট- জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি, বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, গণতান্ত্রিক পরিচয়, জলবায়ু ন্যায়বিচার, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরো সক্রিয় ভূমিকা।
তবে এই নতুন বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা; এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি ও কর্মসংস্থান ধরে রাখা; রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিক সমর্থন বজায় রাখা; জলবায়ু অর্থায়ন আদায় এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা-সবই একই সঙ্গে সামলাতে হবে। তাই জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় শুধু একটি বক্তৃতা নয়। এটি হবে নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক পরিচয়ের প্রথম বড় পরীক্ষা। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি যদি বাস্তব কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে রূপ নেয় এবং বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের নতুন পরিচয় আরো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
আর সেই পরিচয়ের কেন্দ্রে থাকবে একটি প্রশ্ন-বাংলাদেশ কি শুধু বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, নাকি নিজের স্বার্থের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে সমান মর্যাদায় দরকষাকষি করার সক্ষমতাও তৈরি করবে? এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেঙ্কোভিচের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের প্রস্তুতি রয়েছে। বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









