উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকির কাছে ২০০১ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ১২ লেখকের জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বিশ্বের ১৮৮ জন লেখক। তাদের মধ্যে রয়েছেন নোবেলজয়ী লেখক ওলগা তোকারচুক ও জে এম কোয়েটজি। আরও আছেন কলম টোবিন, এলিফ শাফাক, ইসাবেল আয়েন্দে, বেন ওক্রি, ইয়ান মার্টেল, কামিলা শামসি ও সিতসি ডাংগারেম্বগার মতো লেখকেরা।
আন্তর্জাতিক লেখক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চিঠিটি দেওয়া হয়েছে। দিনটি ইরিত্রিয়ায় স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারি দমন-পীড়নের ২৫ বছর পূর্তির সময়ের সঙ্গে মিলে যায়।
চিঠির শুরুতেই বলা হয়েছে, ২০০১ সালের সেই দমন-পীড়নের কয়েক দিনের মধ্যেই ইরিত্রিয়ার স্বাধীন সংবাদমাধ্যম এবং দেশের স্বাধীন কণ্ঠগুলোকে পরিকল্পিতভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

চিঠিতে ২০০১ সাল থেকে কোনো যোগাযোগ ছাড়াই আটক থাকা ১২ লেখকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কবি আমানুয়েল আসরাত এবং নাট্যকার ও সাংবাদিক দাউইত ইসাক। অন্যরা হলেন দাউইত হাবতেমাইকেল, ফেসেহায়ে ‘জোশুয়া’ ইয়োহানেস, মাত্তেওস হাবতিয়াব, মেদহানি হাইলে, সাহলে ‘ওয়েদি-লতে’ তেসগাজেয়াব, সাঈদ আবদেলকাদির, সাঈদ ইদ্রিস ‘আবু আরে’, সেয়ুম তেসহায়ে, তেমেসগেন ঘেব্রেয়েসুস এবং ইউসুফ মোহাম্মদ আলি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, এসব লেখকের পরিবার, ইরিত্রিয়ার মানুষ এবং বিশ্বের সাহিত্যসমাজ দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের বেদনাদায়ক ও আইনবহির্ভূত নীরবতার মুখোমুখি। তাদের স্বাস্থ্য, অবস্থান কিংবা তারা আদৌ বেঁচে আছেন কি না—কোনো তথ্য না দেওয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং নিষ্ঠুর আচরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন লেখকেরা।
চিঠিতে আটক সব ইরিত্রীয় লেখক ও সমালোচকের জীবিত থাকার অবিলম্বে এবং যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আরও রয়েছেন আন্দ্রেই কুরকভ, অ্যান্থনি ডোয়ার, ক্লোয়ি আরিদজিস, লরেন গ্রফ, লেম সিসে, মাজা মেঙ্গিস্তে, ম্যাডেলিন থিয়েন, মার্গারেট বাসবি, ম্যাক্স পোর্টার, ফিলিপ স্যান্ডস, প্রীতি তানেজা, টাইস চিন এবং ভিভ গ্রপস্ক।
চিঠিতে ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, দেশের ভবিষ্যৎ তৈরি হওয়া উচিত তার সবচেয়ে মেধাবী ও সৃজনশীল মানুষদের নিয়ে, তাদের দমন করে নয়। শান্তিপূর্ণভাবে নিজের মত প্রকাশ করার কারণে কোনো লেখক বা সাংবাদিককে নিখোঁজ করে দেওয়া উচিত নয়।
ইরিত্রিয়া ১৯৯৩ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দেশটি প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকির দীর্ঘ শাসনের অধীনে রয়েছে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।

চিঠির শেষে লেখকেরা নিখোঁজ সহকর্মীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, তাদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রচেষ্টা বন্ধ করা হবে না।
চলতি বছরের শুরুতে পেন ইন্টারন্যাশনাল সাধারণ মানুষের জন্য একটি আবেদনও চালু করেছে। সেখানেও ২০০১ সালে নিখোঁজ হওয়া লেখকদের জীবিত থাকার প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
পেন ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি বুরহান সনমেজ বলেন, কোনো পরিবারের জন্য ২৫ বছর ধরে প্রিয়জন বেঁচে আছেন কি না, তা না জেনে অপেক্ষা করা অসহনীয় দীর্ঘ সময়। তার ভাষায়, এসব লেখক মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যাননি। তাদের নাম উচ্চারণ করা এবং তাদের কী ঘটেছিল সে বিষয়ে সত্য জানার দাবি জানানো অব্যাহত থাকবে।
দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। পরিবারগুলো এখনও জানে না তাদের প্রিয়জনেরা কোথায় আছেন। সাহিত্যজগতের মানুষগুলোও একই প্রশ্ন করে যাচ্ছেন—২০০১ সালে যাদের কণ্ঠ থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের কী হয়েছিল?
এবার তাদের দাবি আরও সরল— অন্তত জানানো হোক, তারা বেঁচে আছেন কি না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









