মায়ের কাছ থেকে আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়েছিল ১৩ বছরের কিশোর অপ্রতিম। নিখোঁজের একদিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন আছে। তবে মরদেহ উদ্ধার হলেও তার কাছে থাকা আইফোনটি পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজচিন্তাবিদরা। লেখক ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা নাহিদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনায় হতবাক লেখকসমাজ। তারা দ্রুত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
শামস সাঈদ লিখেছেন, ‘এই মৃত্যুর দায় আপনি কাকে দেবেন? সমাজ, রাষ্ট্র না পরিবারকে? প্রশ্ন থেকেই যায়! আর একের পর এক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। কোনো প্রতিকার নেই। অপ্রতিমের বাবা-মা সারাজীবন সন্তান হারানো ক্ষত নিয়ে বাঁচবেন। বাঁচতে হবে। কিন্তু অন্য কোনো ঘটনা এসে কালই আমাদের ভুলিয়ে দেবে। আমরা চাই না আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি হোক।’
নওশাদ জামিল লিখেছেন, ‘ছোট্ট অপ্রতিম আর নেই। গতকাল থেকে নিখোঁজ ছিল, আজ তার নিথর মরদেহ পাওয়া গেল। কতটা নির্মমতার মধ্য দিয়ে তাকে পৃথিবী ছাড়তে হলো, কে জানে! অপ্রতিমকে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার হবে কি না জানি না। তবু বিচার চাই। কারণ বিচার চাওয়া ছাড়া শোকাহত মানুষের আর কী-ই বা করার থাকে? অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, কথাসাহিত্যিক ও গবেষক নাহিদা নাহিদের ছেলে। নাহিদা নাহিদ আমাদেরই লেখক বন্ধু। এ অর্থে বাচ্চাটা আমাদের সন্তানতুল্য।
অপ্রতিমের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু হৃদয়ে যে গভীর শোক ও কষ্ট তৈরি করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। আল্লাহ, অপ্রতিমের বাবা-মাকে অসহনীয় শোক সহ্য করার শক্তি দিন।’জাকির জাফরান লিখেছেন, ‘একদম বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছি। অতি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে অতি দ্রুত এদের শাস্তিটা দেখতে চাই।’ সাদাত হোসাইন লিখেছেন, ‘ইয়া আল্লাহ! নাহিদা আপু কীভাবে সহ্য করবে! এ কোন অমানুষের দেশ! এ কেমন বর্বর, হিংস্র, জানোয়ার, নৃশংস নরপিশাচের দেশ!’ মাকামে মাহমুদ লিখেছেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা নাহিদের ১৩ বছরের এক শিশুসন্তানও এ দেশে নিরাপদ থাকতে পারেনি।’নিপা জাহান লিখেছেন, ‘বাচ্চাটাকে পাওয়া গেছে। তবে জীবিত নয়। সাত মাসে পনেরো হাজার শিশু নিখোঁজ! দেশ একটি যমপুরীতে পরিণত হয়েছে। আর কোনো অপ্রতীমকে আমরা হারাতে চাই না।’
সানাউল্লাহ সাগর লিখেছেন, ‘অপ্রতিম আর বেঁচে নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ক্যাম্পাসের পাশে দক্ষিণ মোড়ের দিকে জঙ্গলে রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ পাওয়া গেছে। সেই ছবি শেয়ার করার সাহস হলো না। নাহিদাকে কী বলে সান্ত্বনা দেবো কোনো ভাষা জানা নেই। নিজের অজান্তেই আমার চোখ ভিজে উঠেছে। যেন পৃথিবীর সবকিছু থেমে গেছে। আল্লাহ নাহিদা-শাহরিয়ার ভাইকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দাও। আর সরকার বাহাদুরকে বলবো দেশটা নরক হওয়ার আগে আপনারা জেগে ওঠেন।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









