সদ্য পদত্যাগ করা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এবার বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মিষ্টি দল থেকে অব্যাহতি নেয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছেন। গতকাল সরকারি ছুটির দিন থাকায় তিনি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে দল থেকেও পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিষ্টিকে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করে।
নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় এবং সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়। পদত্যাগপত্রে মিষ্টি জানান, তিনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় সংসদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে পদত্যাগের কারণ হিসেবে কোনো বিষয় উল্লেখ করেননি। এর আগে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিষ্টি বলেন, রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে, সেটিই গ্রহণযোগ্য হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপির সিদ্ধান্ত যা হবে, সেটাই হবে।
রাড্ডা সেন্টারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়েও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় দল ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর এসেছে। তবে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসেনি। এ ঘটনার তদন্ত সূত্র বলছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিসহ জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। শুধু তাই নয়, ঘটনার নেপথ্যে নেতৃত্বদানকারী বিএনপির হানিফ, খলিল, পাপেলসহ অন্তত ১৫ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে একাধিক তদন্ত সংস্থা। সংগ্রহকৃত সব তথ্য-উপাদ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যে কোনো সময় এদের আইনের আওতায় আনা হবে। দল-বল-নির্বিশেষে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
সূত্রের ভাষ্য, রাড্ডার ঘটনা নিয়ে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুই দিন ধরে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। হামলা ও ভাঙচুরে কারা জড়িত ছিলেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নেপথ্যে কারা ভূমিকা রেখেছেন- এসব বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তদন্তে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, তদন্তে যার নামই আসুক, সরকার তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক সূত্র বলছে, রাড্ডার ঘটনাটি দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট এবং জমি দখলের অভিযোগের সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের নাম আসায় বিষয়টি নিয়ে সরকার বিব্রত। ঘটনার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর তাঁর ভূমিকা ও রাজনৈতিক দায়ও আলোচনায় এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের বিষয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
অনুসন্ধানে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের ভূমিকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা অন্যতম। তাঁরা ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তদন্তের স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে রাড্ডা ভেঙে ব্যবসায়ী সমিতির স্থাপিত সাইবোর্ডের সব সদস্যকে আটক এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









