বরিশালের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা বাস টার্মিনালে বাসভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভুরঘাটা বাস টার্মিনাল এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে গৌরনদী ও কালকিনি থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সংঘর্ষের সময় টার্মিনাল এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায়। কালকিনির ডাসার উপজেলার বনগ্রাম এলাকার এক বাসযাত্রীর সঙ্গে ভুরঘাটা বাস টার্মিনালের কাউন্টার মাস্টারের বাসভাড়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।
স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় বনগ্রাম এলাকা থেকে কয়েকশ মানুষ ভুরঘাটা বাস টার্মিনাল এলাকায় আসেন। একপর্যায়ে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
ভুরঘাটা এলাকার বাসিন্দা ও গৌরনদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাওছার তালুকদার অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনার জের ধরে বনগ্রাম এলাকার মোফাজ্জেল সরদার, বায়জিদ সরদার, হাবুল ঘরামী, দেলোয়ার সরদার ও এমারাত সরদারের নেতৃত্বে কয়েকশ মানুষ ভুরঘাটা বাস টার্মিনালে হামলা চালান।
কাওছার তালুকদারের দাবি, হামলাকারীরা ২০ থেকে ২৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অন্তত ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় স্থানীয় প্রায় ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জেল সরদার। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনার বিষয়ে জানতে কয়েকজন ভুরঘাটা বাস টার্মিনালের একটি কাউন্টারে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বনগ্রাম থেকে আরও লোকজন সেখানে গেলে তাদের লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
মোফাজ্জেল সরদারের দাবি, সংঘর্ষে তাদের পক্ষের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের কালকিনি উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগকে তিনি ‘মিথ্যা ও সাজানো’ বলেও দাবি করেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, বর্তমানে ভুরঘাটা এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









