অনেক আশা নিয়ে নাগোয়ায় এসেছিলেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। তবে লিটন-মুস্তাফিজরা তাদের হতাশ করেছেন। তুলনামূলক দুর্বল শক্তির শ্রীলঙ্কার কাছে যাচ্ছেতাই ব্যাটিংয়ে মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ফলে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকও জুটল না বাংলাদেশের কপালে। এবারই প্রথম পুরুষ ক্রিকেটে কোনো পদক ছাড়াই দেশে ফিরছে বাংলাদেশ দল।
১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনারই শূন্য রানে আউট হন। প্রথম দুই ওভারেই বাংলাদেশ হারায় দুটি উইকেট। অধিনায়ক লিটন দাস গত ম্যাচে করেছিলেন ২ রান। আজ আরও বাজে অবস্থায় ফিরেছেন তিনি। প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক নিয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন।
শ্রীলঙ্কান দলে সিনিয়র কিংবা জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নেই বললেই চলে। প্রথমে ২১ রানে ৪ উইকেট হারিয়েও তারা শেষ পর্যন্ত ১৬৫ রান তুলেছিল। সেখানে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা ছিলেন শুধু আসা-যাওয়ার মধ্যে। চার ব্যাটসম্যান কোনো রানই করতে পারেননি। বাজে শট খেলে একেকজন উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন। ফলে শ্রীলঙ্কার ব্রোঞ্জ জয়টা হয়ে ওঠে সময়ের অপেক্ষা।
৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা নাসুম আহমেদ বাংলাদেশের সংগ্রহ একশ পার করেন। তার ব্যাট থেকে আসে দলের সর্বোচ্চ ২৬ রান। এ ছাড়া ইয়াসির আলী রাব্বি ২১ এবং পারভেজ হোসেন ইমন করেন ২০ রান। ১৭.৩ ওভারেই ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন নুয়ান থুসারা, থারিন্দু রত্ননায়েকে, বিজয়াকান্ত বিয়াসকান্ত ও ওয়ানুজা সাহান।
এর আগে নিজেদের সিদ্ধান্তে ব্যাটিংয়ে নেমেও ভালো শুরু করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ দুই প্রান্ত থেকেই স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। তাদের ঘূর্ণিতে ৪ ওভারের মধ্যেই ৪ উইকেট হারায় লঙ্কানরা।
রহস্যময় স্পিনার আলিস আল ইসলামকে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলায়নি বাংলাদেশ। তবে আজ ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে প্রথম স্পেলেই দারুণ বোলিং করেন তিনি। ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। তার করা ১৮ বলের মধ্যে ১২টিই ছিল ডট বল।
স্পিন উইকেটে আগের ম্যাচে সাইফ হাসানকে বোলিংয়ে ব্যবহার করেননি অধিনায়ক লিটন দাস। তবে আজ তার হাতে বল তুলে দেন। সাইফ প্রথম স্পেলে ২ ওভারে দেন ১৮ রান। বাংলাদেশের সফল বোলার ছিলেন স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। পূর্ণ ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে তিনি নেন ২ উইকেট।
১৩ ওভার পর্যন্ত চাপে ছিল শ্রীলঙ্কা। বল কিছুটা পুরোনো হওয়ায় ১৪তম ওভারে অভিজ্ঞ বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক লিটন। প্রথম ওভারেই ২৫ রান দেন তিনি। শুরুর দুই বলেই চার হাঁকান লঙ্কান দুই ব্যাটার।
ওই ওভারের পর সাহান আরচিগে ও থারিন্দু রত্ননায়েকে স্বাভাবিক স্ট্রোক খেলতে শুরু করেন। দুই ওভার বিরতি দিয়ে প্রান্ত বদলে আবার মুস্তাফিজকে বোলিংয়ে আনেন লিটন। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ১১ রান দেন মুস্তাফিজ। রিশাদ হোসেনও শেষ ওভারে দেন ২১ রান। ফলে ১৩ থেকে ১৮ ওভারে ৮৩ রান তোলে শ্রীলঙ্কা।
১৮ ওভারে ৫ উইকেটে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ১৪৭ রান। মুস্তাফিজ নিজের তৃতীয় ওভারে এসে কিছুটা ছন্দ খুঁজে পান। প্রথম বলেই হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা থারিন্দু রত্ননায়েকেকে ফেরান তিনি। ৩২ বলে ৬৫ রান করেন থারিন্দু। ওই ওভারে আরেকটি উইকেট নিয়ে ৭ রান দেন মুস্তাফিজ।
শেষ ওভারে সাইফ হাসান দুটি উইকেট নিলে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানে থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









