একজন ইউএফও (উএফও (UFO) হলো ইংরেজিতে Unidentified Flying Object-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। বাংলায় এর সহজ অর্থ হলো ‘অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু’ বা ‘অচিহ্নিত উড়ন্ত বস্তু’) তথ্য ফাঁসকারী (Whistleblower) দাবি করেছেন যে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে, বিশেষ করে আমেরিকার ঠিক ওপরে দুটি ভিন্ন এলিয়েন বা ভিনগ্রহী প্রজাতির মধ্যে যুদ্ধ চলছে। জনপ্রিয় পডকাস্টার জো রোগান তার পডকাস্টে এই বিস্ময়কর ও অদ্ভুত দাবিটি শুনে পুরোপুরি হতবাক হয়ে যান। ওই তথ্য ফাঁসকারীর মতে, এই প্রজাতিগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং তাদের নিজস্ব কৌশলগত পার্থক্যের কারণে গোপনে এই সংঘর্ষ ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে বা গোপন সংকেতের মাধ্যমে চালিত হচ্ছে।
ইউএফও তথ্য প্রকাশকারী দাবি, ‘গ্রে’ এবং ‘রেপটিলিয়ান’ এলিয়েনদের যুদ্ধের ফলে ‘কমপক্ষে এক ডজন’ মহাকাশযান বিধ্বস্ত হয়েছে, যা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেছেন জনপ্রিয় পডকাস্টার জো রোগান।
ডেভিড গ্রুশ নামের একজন প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা যিনি বর্তমানে ইউএফও স্বচ্ছতার বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের সহায়তা করছেন, সম্প্রতি ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে এই অসাধারণ দাবিটি করেন। গ্রুশ ২০২৩ সালে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে মার্কিন সরকার কয়েক দশক ধরে গোপনে অ-মানবীয় মহাকাশযান উদ্ধার এবং সেগুলোর প্রযুক্তি রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং (গোপন প্রযুক্তি বোঝার প্রক্রিয়া) করার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পৃথিবীর আকাশে অ-মানবীয় বুদ্ধিমত্তার (NHI) মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: ‘আমরা তা নথিবদ্ধ করেছি... যাকে আমরা যুদ্ধ হিসেবে দেখি। এটি সংঘাতের মতোই মনে হয়, সংঘাতের মতোই এর রূপ।’ গ্রুশ জানান, দুর্ঘটনাস্থলে মৃত রেপটিলিয়ান এবং গ্রে এলিয়েনের লাশ উদ্ধারের বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়েছিল। রোগান তখন বলেন, ‘তাহলে গ্রে এবং রেপটিলিয়ানরা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি বা যুদ্ধ করছিল?’ গ্রুশ হাত তুলে উত্তর দেন, ‘আমারও তা-ই মনে হয়।’ তা শুনে চোখ কপালে তুলে রোগান প্রতিক্রিয়া জানান: ‘বাহ্! ডেভিড, এটা শুনে তো একদম পাগলামি মনে হচ্ছে।’
গ্রুশ রোগানকে বলেন, অ-মানবীয় সত্তাদের মধ্যকার সংঘাতের সাথে জড়িত ‘কমপক্ষে এক ডজন বা দুই ডজন’ দুর্ঘটনাস্থল সম্পর্কে তিনি জানেন। রোগান তখন জিজ্ঞেস করেন, মৃত রেপটিলিয়ান লাশের পাশে কী ধরণের যান পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে? গ্রুশ জানান, সেটি ছিল একটি ‘টিক ট্যাক’ (Tic Tac) আকৃতির যান। এই বিবরণটি ২০০৪ সালে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে কমান্ডার ডেভিড ফ্র্যাভর বলেছিলেন যে তিনি এবং তার দল টিক ট্যাক লজেন্সের মতো মসৃণ, সাদা একটি বস্তু দেখেছিলেন। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ফুট লম্বা ওই যানটিতে কোনো দৃশ্যমান ডানা, লেজ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা ধোঁয়া নির্গমনের পথ ছিল না।
এরপর আলোচনা মোড় নেয় রেপটিলিয়ান প্রাণীদের কথিত চেহারার দিকে। গ্রুশ তার এক বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া একটি বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সাত ফুটেরও বেশি লম্বা, কিছুটা গরিলাদের মতো ত্বক। তবে এগুলোর বিভিন্ন ধরণ রয়েছে। কিছু আছে যা দেখতে মানুষের কাছাকাছি।’
গ্রুশ বিভিন্ন আকারের ‘গ্রে’ এলিয়েনদের তথ্যও তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে তুলনামূলক লম্বা প্রজাতি এবং ‘ছোট ছোট আকৃতির’ প্রজাতি। গ্রুশ জোর দিয়ে বলেন যে তিনি নিজে কখনো কথিত রেপটিলিয়ানদের মুখোমুখি হননি; তিনি কেবল অন্যদের অভিজ্ঞতা এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল উপাদানের ওপর নির্ভর করছেন। ২০২৫ সালে ক্যাপিটল হিলে আয়োজিত একটি শুনানিতে যে চারটি এলিয়েন ধরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল, তার মধ্যে গ্রে এবং রেপটিলিয়ান দুটি প্রজাতি বলে দাবি করা হয়। পেন্টাগনের অতি-গোপন প্রকল্পে কাজের জন্য পরিচিত পদার্থবিজ্ঞানী ড. এরিক ডেভিস এক ব্রিফিংয়ে কথিত ভিনগ্রহী প্রজাতি হিসেবে—‘গ্রে, নরডিকস, ইনসেক্টয়েডস এবং রেপটিলিয়ানস’—এর নাম উল্লেখ করে শ্রোতাদের চমকে দেন, যারা অজ্ঞাত যান পরিচালনা করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









