কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষতিকর ব্যবহার কিংবা পারমাণবিক সংঘাতের কারণে ২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে নতুন এক বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়নে।
আগামী ৭৫ বছরে মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ১৭টি হুমকির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এ দুটি ঝুঁকি। তালিকায় আরও রয়েছে ধনী দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা ব্যয় কমানো, জলবায়ুসংকট ও শিশুদের অপুষ্টি।
‘দ্য ল্যানসেট কমিশন অন টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি গ্লোবাল থ্রেটস টু হেলথ’-এর বিশেষজ্ঞরা এই তালিকা তৈরি করেছেন। তাঁরা বলছেন, এসব ঝুঁকি পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি ঝুঁকি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জোর দিয়েছেন তাঁরা।
হুমকির তালিকা তৈরি করতে কমিশন বর্তমান প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ঝুঁকির কারণে অসুস্থতা, অক্ষমতা কিংবা অকালমৃত্যুর ফলে কত বছরের সুস্থ জীবন হারাতে পারে, তার মডেল তৈরি করেছে। এ পরিমাপকে বলা হয় প্রতিবন্ধিতার কারণে সমন্বিত জীবনবর্ষ বা ‘ডিজঅ্যাবিলিটি-অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ারস’ (ড্যালিস)। ল্যানসেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জৈব অস্ত্রসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষতিকর ব্যবহার এবং পারমাণবিক সংঘাতের সঙ্গে পারমাণবিক শীত ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আগামী ৭৫ বছরে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব ঘটনার সম্ভাবনা কম হলেও পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। পারমাণবিক সংঘাতের ক্ষেত্রে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে পর্যাপ্ত পরিমাণ কণা ছড়িয়ে সূর্যের আলো আটকে দেওয়া হতে পারে। এতে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি জৈব অস্ত্রও মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। প্রতিবেদনটির সঙ্গে একই সময়ে প্রকাশিত দ্য ল্যানসেট-এর একটি সম্পাদকীয়তে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এসব ঝুঁকি বাস্তবে রূপ নিলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা মানবজাতির ওপর এক মহাপ্রলয় ডেকে আনবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









